আফজাল হোসেনের প্রশংসায় ভাসলো ‘বনলতা সেন’, বললেন ‘বেঁচে থাকার অনুভব দিয়েছে’
আফজাল হোসেনের প্রশংসায় ভাসলো ‘বনলতা সেন’

ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘বনলতা সেন’ সিনেমার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ছবির নির্মাতা থেকে কলাকুশলীর প্রশংসা করে লেখেন, ‘একটা সিনেমা দেখে ফিরলে অনেকের জানবার কৌতূহল হয় সিনেমাটা কেমন? “বনলতা সেন” দেখা শেষ হয়। প্রেক্ষাগৃহের আলো জ্বলে ওঠে। সে আলো নিঃশব্দে প্রশ্ন করে, কেমন লেগেছে? নিঃশব্দে করা প্রশ্নের উত্তর নিঃশব্দেই দিই। বলি, এই সিনেমা বেঁচে থাকার অনুভব দিয়েছে।’

চৌদ্দজনের দল দেখল ‘বনলতা সেন’

আফজাল হোসেন আরও লিখেছেন, ‘চৌদ্দজনের একটা দল একসাথে “বনলতা সেন” সিনেমাটা দেখেছি। বড়সড় এই দলটায় ছিল অভিনয়শিল্পী, গায়ক, সম্পাদক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, কবি, আরও অনেক পরিচয়ের মানুষ। সিনেমা দেখা শেষে সবার চোখেমুখে দেখেছি বিস্ময় ও মুগ্ধতা মিশ্রিত আনন্দ।’

আফজাল হোসেন জানান, সেদিন প্রেক্ষাগৃহে আনুমানিক আরও ৩০ জন দর্শক ছিল। যে সিনেমা এত কমসংখ্যক মানুষ দেখে, সেটাকে সাধারণত ভালো সিনেমা মনে করা হয় না। সাধারণের কাছে ভালো সিনেমা সেটা, যেটা অনেক দিন ধরে অনেক মানুষ অনেকবার টিকিট কেটে দেখে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কবি জীবনানন্দ দাশ ও ‘বনলতা সেন’ কবিতা প্রসঙ্গ

আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘দেশের অধিক সংখ্যক মানুষ “বনলতা সেন” কবিতাটা পড়েনি। যারা পড়েছে, মনের সাধ মেটাতে পড়েছে অসংখ্যবার। মৃত্যুর বয়স হলে বা অকালমৃত্যু হয়েছে বহু পাঠকের। জন্মেছে নতুন মানুষ, নতুন পাঠক। তারাও আটকেছে মুগ্ধতায়। ১৯৪২ সালে লেখা একটা কবিতা সম্পূর্ণ নতুনের চমক নিয়ে আজও বেঁচে আছে। “পাখির নীড়ের মত চোখ” এই উপমার মর্মার্থ খুঁজতে খুঁজতে মানুষ জীবন কাটিয়ে দেয়। লেওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মোনালিসা এঁকেছিলেন। ছোট্ট আকৃতির এই ছবিটা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত, কৌতূহলোদ্দীপক চিত্রকর্ম ধরে নেওয়া হয়। মোনালিসার রহস্যপূর্ণ হাসি নিয়ে গবেষণা আজ পর্যন্ত থেমে নেই। এইসব নিয়ে না ভাবাভাবি করলেও জীবন চলে। আবার অদরকারি ভাবনা ভেবে ভেবেও সময় নষ্ট করতে ভালো লাগে অনেকের।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে এই অভিনেতা ও নির্মাতা আরও লিখেছেন, পুনর্বার হাঁস বা ঘাস হয়ে জন্ম নিতে চাওয়া কবি ধীরগতির ট্রামের ধাক্কায় মৃত্যুবরণ করেন শুনে অনেক বুদ্ধিমান মানুষের হাসি পায়। সে বুদ্ধিমানেরা হাত–পা অলা মানুষই কেবল, তারা এ জগতের নানা সৌন্দর্য, মুখরতার অংশ নয়। আমাদের চারপাশে অধিকার, স্বাধীনতা, কর্তব্য—এইসব অজুহাতে প্রতিদিন বহু প্রকার অসভ্যতা ঘটে চলেছে। অহরহই ঘটে চলেছে বলে মনে যে আশার আলো, তা অতিশয় টিমটিমে। বাতিঘরের দেখা নেই, অশান্ত সমুদ্র তবু হালভাঙা যে নাবিকের মনে সমুদ্র জয়ের আকাঙ্ক্ষা জাগে, সে নাবিক আকাঙ্ক্ষা জাগাতেও পারে।

নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলকে প্রশংসা

‘বনলতা সেন’ নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলকে উদ্দেশ্য করে আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘নির্মাতার কবি ও কবিতার অনুভব, প্রেক্ষাপট, দ্যোতনাময় প্রেম, হৃদয় খুঁড়ে আনন্দ ও বেদনা আবিস্কারের চেষ্টা-এসব চলচ্চিত্রের উপাদান হতে পারে, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল তা ভাবতে এবং ভাবাতে পেরেছেন এটিই বিস্ময়কর।’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘বনলতা সেন বিস্ময় জাগাতে পারা চলচ্চিত্র। সে আনন্দ বিস্ময় একত্রে অনুভব করায়, দেশটায় আলো নিভিয়ে দেবার মতো মানুষ দিনে দিনে বৃদ্ধি পেলেও সর্বনাশের আশঙ্কা অহেতুক। স্বপ্নবান, আশা জাগিয়ে দেবার মতো নীরব মানুষও আশেপাশে আছে। এমন সিনেমা অনুভব করায় “তুমি মৃতপ্রায় কিন্তু বেঁচে আছ।”’