ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন জাদুঘর উদ্বোধন
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন জাদুঘর

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের খুব কাছে বানানো হয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন জাদুঘর। এখানে এসে দর্শনার্থীরা ১ হাজার প্রাণীর ছবি ও প্রতিকৃতির মাধ্যমে বন্য প্রাণীদের খুব কাছ থেকে দেখতে পাবেন। মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের অভিজ্ঞতা কেমন, তা সরাসরি অনুভব করা যাবে।

নতুন জাদুঘরের বিবরণ

নতুন এই জাদুঘরটির নাম ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মিউজিয়াম অব এক্সপ্লোরেশন’। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ডলার। আর এটি প্রায় ১ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। ২০২৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরোনো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জাদুঘরের জায়গাতে চলতি বছর ২৬ জুন এটি নতুন করে চালু করা হয়।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির ইতিহাস

১৮৮৮ সাল থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন থেকে বেশির ভাগ মানুষ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটিকে চেনেন। সোসাইটিটি ওই বছর একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর পর থেকে সংস্থাটি পৃথিবীর রহস্য উন্মোচন ও তা রক্ষার জন্য বিজ্ঞানী, শিক্ষক, পরিবেশবিদ ও গল্পকারদের মতো হাজার হাজার অভিযাত্রীকে আর্থিক সহায়তা ও নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জাদুঘরের অভিজ্ঞতা

এই জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে এলে দর্শনার্থীরা নিজেরা একজন অভিযাত্রী বা এক্সপ্লোরারের মতো অভিজ্ঞতা পাবেন। এখানে শুধু কাচের ভেতরে জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে এমন না। বরং এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সবকিছু ছোঁয়া যায় ও সরাসরি অংশ নেওয়া যায়। জাদুঘরটিতে রয়েছে বিশেষ থিয়েটার ও ছোট–বড় সবার জন্য শিক্ষণীয় ও মজাদার বিভিন্ন প্রদর্শনী, যা দর্শকদের অভিযানের বাস্তব অনুভূতি দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবেশপথ ও লবি

সংস্থার সদর দপ্তরের ঠিক পাশে এ জাদুঘরটি অবস্থিত। জাদুঘরের ভেতরে ঢোকার আগে বাইরের চত্বরে বন্য প্রাণীদের আসল আকারের কিছু ভাস্কর্য দেখা যায়। সেখানে দেখা যাবে একটি জাগুয়ার কীভাবে ক্যাপিবারা শিকার করছে, একটি পেঙ্গুইন কীভাবে ছানার যত্ন নিচ্ছে। আর কাছাকাছি থাকা একটি শকুন মনে করিয়ে দেবে প্রকৃতির পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এই পাখিদের ভূমিকার কথা।

লবির ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়বে বাঁকানো কাঠের দেয়াল। এই দেয়ালে স্ক্রিনের মাধ্যমে হিমবাহ, গভীর সমুদ্রের তলদেশ ও যাযাবর সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার ভিডিও দেখানো হয়, যা চারপাশকে জীবন্ত করে তোলে। এ ছাড়া লবির ঠিক ওপরে একটি বিশাল গোলাকার ছাদ বা স্কাইলাইট রয়েছে, যা দিয়ে সরাসরি দিনের আলো ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

প্রদর্শনী ও গ্যালারি

জাদুঘরের চিফ এমিলি ডানহাম জানান, ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাহসী অভিযাত্রীদের সব অসাধারণ গল্প তুলে ধরতে এই জাদুঘর। এর প্রথম তলাটি সাজানো হয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক শতাব্দীর ছবি তোলার ঐতিহ্য নিয়ে। এখানে একটি ডিজিটাল দেয়ালে স্ক্রল করে ম্যাগাজিনের সব প্রচ্ছদ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আমরা টিভিতে যা যা দেখেছি, এখানে গেলে তার পেছনের গল্প জানা যাবে।

‘ইন ফোকাস’ প্রদর্শনীতে আছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত কিছু ছবি। রাতে তোলা প্রথম বন্য প্রাণী কিংবা উত্তরের সাদা গন্ডারের শেষ ছবি। শিশুদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ পথ, যা দিয়ে তাদের শেখার ও খেলার জায়গায় যাওয়া যায়। সেখানে ‘জিওভার্স’ নামের ২৭০-ডিগ্রি থিয়েটারে পেরুর বন ও অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমির বাস্তব অনুভূতি মেলে।

ফটো আর্ক ও রোলেক্স এক্সপ্লোরারস ল্যান্ডিং

কাছেই ৩৬০ ডিগ্রি গ্যালারির ‘ফটো আর্ক’ প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী জোয়েল সার্টোরের তোলা ১৮ হাজারের বেশি প্রজাতির প্রাণীর ছবি রয়েছে। জাদুঘরের ওপরের তলার ‘রোলেক্স এক্সপ্লোরারস ল্যান্ডিং’-এ দর্শনার্থীরা নিজেরা অভিযাত্রীর অভিজ্ঞতা পাবেন। এখানে গবেষকদের ব্যবহৃত সরঞ্জামে সাজানো। প্রদর্শনীতে আছে পরিবেশবিদ স্টিভ বয়েসের ওকাভাঙ্গো অভিযানে ব্যবহৃত ডিঙি নৌকা ও দুরবিন। আধুনিক ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে মাউন্ট এভারেস্টে বিশ্বের সর্বোচ্চ আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন ও আমাজন নদীর পানিপথ তৈরির অবিশ্বাস্য সব গল্প। এ ছাড়া রয়েছে সমুদ্রবিজ্ঞানী সিলভিয়া আর্লের ১৯৭৯ সালের রেকর্ড গড়া ডাইভিং স্যুটের প্রতিরূপ।

রাতের আকর্ষণ

রাতের বেলা এই জাদুঘরের বাইরের দেয়ালে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় ভার্চুয়াল জলজ জগৎ। যেখানে তিমি, মাছ ও পেঙ্গুইনদের সাঁতার কাটতে দেখা যায়। মূলত দর্শকদের বিজ্ঞানীদের কাজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ও চারপাশের প্রকৃতিকে ভালোবাসতে এবং রক্ষা করতে অনুপ্রাণিত করা এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র: সিএনএন