মেহজাবীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মদ সংক্রান্ত অভিযোগ: আইনি পদক্ষেপ নিলেন অভিনেত্রী
গত বছরের একটি ঘটনাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশ থেকে ফেরার সময় মডেল ও অভিনয়শিল্পী মেহজাবীন চৌধুরীর লাগেজে মদের বোতল পাওয়ার অভিযোগে বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর গত রোববার মেহজাবীন ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আমি লক্ষ করছি, আমাকে নানা বিষয়ে টার্গেট করা হচ্ছে।’ আজ মঙ্গলবার ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন মেহজাবীন, সেখানে তিনি লিখেছেন, এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ঘটনার পুনরাবৃত্তি ও অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া
মেহজাবীনকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে ফেরার সময় মেহজাবীন চৌধুরীকে আটক করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এ সময় তাঁর লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা ও প্রযোজক স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত। কয়েক মাস পর বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রোববার দেওয়া এক পোস্টে মেহজাবীন দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দেওয়া পোস্টে মেহজাবীন লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই। প্রথমত, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সে রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি।’
প্রমাণের অভাব ও উদ্বেগ প্রকাশ
মেহজাবীন আরও দাবি করেন, বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে কিছু অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে?’
মেহজাবীনের মতে, প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের খবর প্রচার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারোরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ অমূলক এবং আমি আবারও বলছি, এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যা প্রকাশিত হয়েছে, সেই ব্যাপারে আমার কোনোই সংশ্লিষ্টতা নেই।’
আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে মেহজাবীন চৌধুরীর সঙ্গে বেলা সোয়া দুইটায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা সেলিব্রিটি জীবনে মানহানি ও মিথ্যা প্রচারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
