একুশে ফেব্রুয়ারিতে 'বঙ্গ সম্মান' ঘোষণা: শিবাজী, পরমব্রতসহ তারকাদের সম্মাননা
একুশে ফেব্রুয়ারিতে 'বঙ্গ সম্মান' ঘোষণা, তারকাদের সম্মাননা

একুশে ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'বঙ্গ সম্মান' ঘোষণা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি বিশেষ সম্মাননা ঘোষণা করেছে। চলতি বছরে বিনোদন জগতের একদল কৃতী ব্যক্তিকে 'বঙ্গবিভূষণ' ও 'বঙ্গভূষণ' সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য সরকার বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পের বিকাশে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিচ্ছে।

বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা প্রাপ্তরা

গানের জগতে অনন্য অবদানের জন্য এবার বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট শিল্পী। তালিকায় রয়েছেন শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, ইমন চক্রবর্তী, এবং লোপামুদ্রা মিত্র। এছাড়াও, গায়ক ও রাজনীতিক বাবুল সুপ্রিয় এই সম্মাননা পেয়েছেন। শিল্প ও সাহিত্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখার জন্য চিত্রকর গণেশচন্দ্র হালুই এবং কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

বঙ্গভূষণ সম্মাননা প্রাপ্তরা

অন্যদিকে, বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলা সিনেমা ও সংগীত জগতের আরও কয়েকজন তারকা। অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রায় তিন দশক ধরে বাংলা সিনেমা ও সিরিজে কাজ করার পাশাপাশি মুম্বাইয়েও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য রবীন্দ্রসংগীত ও বাংলা আধুনিক গানের জগতে একটি উল্লেখযোগ্য নাম, যার ক্যারিয়ার প্রায় তিন দশক জুড়ে বিস্তৃত।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়ক রূপঙ্কর বাগচী বাংলা সিনেমার জন্য অসংখ্য হিট গান তৈরি করেছেন এবং এবার বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেয়েছেন। রাঘব চট্টোপাধ্যায় বাংলা আধুনিক গানের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত, যিনি এবার এই সম্মাননা লাভ করেছেন। এছাড়াও, রিয়্যালিটি শো থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিধায়ক এবং কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সী বঙ্গভূষণ সম্মাননা পেয়েছেন। গায়ক কার্তিক দাস বাউলও এই তালিকায় রয়েছেন, যারা বাংলা সংস্কৃতিতে তাদের অনবদ্য ভূমিকার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সম্মাননার তাৎপর্য

এই সম্মাননা প্রদান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্যকেই নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধিকে তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই ঘোষণা একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সম্মান জানায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগ শিল্প ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।