প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন মোড়
প্রিন্স অ্যান্ড্রু পুলিশ হেফাজতে, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির তদন্ত

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার: রাজপরিবারের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা

ব্রিটেনের রাজপরিবারের বিতর্কিত সদস্য সাবেক যুবরাজ প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার, নিজের ৬৬তম জন্মদিনে তাকে আটক করা হয়। আধুনিক ইতিহাসে কোনো জ্যেষ্ঠ ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর জীবন ও কর্মজীবন

১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া অ্যান্ড্রু ছিলেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপের দ্বিতীয় সন্তান। বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হলেও অ্যান্ড্রু সামরিক পেশা বেছে নেন। রয়্যাল নৌবাহিনীতে ২২ বছর কর্মরত থাকার সময় ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে অংশ নেন। পরে ২০০১ সালে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক ব্রিটেনের বিশেষ প্রতিনিধি করা হয়।

এপস্টেইন কেলেঙ্কারির সূত্রপাত

বর্তমান তদন্তের সূত্রপাত সেই সময়ের কর্মকাণ্ড থেকে। সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু সরকারি নথি এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করেছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ২০১১ সালে তাকে ওই পদ ছাড়তে হয়। ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনকর্মে প্ররোচিত করার দায়ে এপস্টেইন কারাদণ্ড ভোগ করেন।

সাক্ষাৎকার ও সমালোচনা

২০১৯ সালে এপস্টেইন পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অ্যান্ড্রু বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকার দেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতি না দেখানো এবং অবিশ্বাস্য ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর পরপরই তিনি সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব ও দাতব্য কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

আদালতের মামলা ও রাজকীয় পদচ্যুতি

২০২১ সালে এপস্টেইনের এক ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নিউইয়র্কের আদালতে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের। অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার সামরিক উপাধি ও রাজকীয় দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। পরে অঘোষিত অর্থের বিনিময়ে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। জিউফ্রে ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করেন।

ইমেইল প্রকাশ ও রাজপরিবারের পদক্ষেপ

গত বছর প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু পূর্বে স্বীকার করার চেয়ে দীর্ঘ সময় এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এরপর রাজা তৃতীয় চার্লস তার ভাইয়ের রাজকীয় উপাধি, সম্মাননা এবং উইন্ডসরের বাসভবন প্রত্যাহার করেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পরও অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন।

এই ঘটনা ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তাদের ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এটি রাজপরিবারের ভবিষ্যতের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।