আমার মাও বলতেন আর কত খাবি: ভারতি সিং
আমার মাও বলতেন আর কত খাবি: ভারতি সিং

কৌতুকশিল্পী, অভিনেত্রী ও উপস্থাপক ভারতি সিং 'দ্য কপিল শর্মা শো' এবং 'কমেডি সার্কাস'-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এনার্জেটিক কমেডি টাইমিং এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তিনি তার স্বামী হর্ষ লিম্বাচিয়ার সঙ্গেও বিভিন্ন শো সঞ্চালনা করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

পর্দায় ভারতি সিংয়ের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি কোটি মানুষের মন জয় করলেও পর্দার পেছনের গল্পটি অনেক বেশি বিষাদময়। ছোটবেলা থেকেই তিনি বডি শেমিং বা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন। এমনকি নিজের মায়ের কাছ থেকেও তাকে শুনতে হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ভারতি সিং তার শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, সেই সময় সমাজে শরীর নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাকে কোনো অপরাধ মনে করা হতো না। কেউ কিছুটা স্থূল হলে সরাসরি 'মোটা' বা গায়ের রং চাপা হলে অবলীলায় 'কালো' বলে ডাকা হতো। এসব মন্তব্যে অপর পাশের মানুষের মনে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি হয়, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না কারও।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিণত বয়সে এসে তিনি উপলব্ধি করেন, আপনজনদের কাছ থেকে আসা এমন মন্তব্য একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে কতটা তলানিতে নামিয়ে আনতে পারে। বিনোদন জগতে পা রাখার পর ভারতি সিং দেখেছেন, স্থূলতাকে পুঁজি করে কৌতুক তৈরি করা বা কাউকে ছোট করে হাসানোর প্রবণতা বেশ পুরনো।

ক্যারিয়ারের শুরুর সেই কষ্টগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এক কঠোর সিদ্ধান্ত নেন ভারতি সিং। তিনি ঠিক করেন, অন্য কাউকে অপমান করে বা কারও শারীরিক গঠন নিয়ে ব্যঙ্গ করে তিনি হাসির রসদ জোগাবেন না। তিনি বলেন, 'আমার নিজের মাও আমাকে বলতেন আর কত খাবি? এবার খাওয়া থামা, না হলে তো আরও মোটা হয়ে যাবি।' ছোটবেলায় নিয়মিত এসব কথা শুনতে শুনতে তিনি একরকম অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান ভারতি সিং।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমানে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে চলেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত তাকে শুধু একজন ভালো শিল্পীই নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।