অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় শিশুদের হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চলমান এই সহিংসতায় শিশুরা এক ‘অসহনীয় মূল্য’ দিচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা জানান।
শিশু হতাহতের ভয়াবহ চিত্র
জেমস এল্ডার জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। এর পাশাপাশি গত কয়েক মাসে আরও প্রায় ৮৫০ জন শিশু আহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশের শরীরেই সরাসরি তাজা গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, এই মৃত্যুর ৯৩ শতাংশের জন্যই ইসরাইলি বাহিনী দায়ী।
বসতি স্থাপনকারীদের নৃশংসতা
মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, গত ২০ বছরের মধ্যে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার হার ছিল সর্বোচ্চ। এসব হামলায় শিশুদের গুলি করা, ছুরিকাঘাত, মারধর এমনকি মুখে পিপার স্প্রে করার মতো অমানবিক ঘটনার প্রমাণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি বসতি স্থাপনকারীদের এমন নৃশংসতা শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত
সহিংসতার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের নানাবিধ বিধিনিষেধের কারণে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, পানির সংযোগে হামলা এবং যাতায়াতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে একটি বড় জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অন্তত ১,১০০ শিশুসহ ২,৫০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা গত বছরের মোট বাস্তুচ্যুতির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গাজা যুদ্ধের প্রভাব
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,০৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলায় অন্তত ৪৬ জন ইসরাইলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।
সূত্র: দ্য ডন।



