ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে যুবক রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেলের (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে। সোমবার দুপুরে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাদকের আড্ডা ও বাসা ছাড়তে বলাকে কেন্দ্র করে নারী বাড়িওয়ালাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ক্ষোভে তাঁর চার ছেলে মিলে রাজিবকে হত্যা করেন।
ঘটনার বিবরণ
পিবিআই সূত্র জানায়, প্রায় এক মাস আগে রাজিব ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তাঁর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বাড়ির মালিকের আপত্তি ছিল। অভিযোগ আছে, তিনি সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাঁকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে রাজিব জোর করে সেখানে থাকতে চাইছিলেন।
পিবিআইয়ের দাবি, গত রোববার সকাল ছয়টা থেকে ১০টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সকালে রাজিব প্রথমে বাড়িওয়ালা ও তাঁর ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাঁদের ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির মালিককে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে বাড়ির মালিকের চার ছেলে পরিকল্পনা করে একটি চায়নিজ কুড়াল দিয়ে রাজিবের গলায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই নারীর চার ছেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরে তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তার চার ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে তাঁরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এ ঘটনায় রাজিবের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তাঁর তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানান, মামলার এক নম্বর আসামি বাড়ির মালিক নারী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এ ছাড়া আগে আটক হওয়া আরও দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে তাঁদের সম্পৃক্ততা তদন্ত করা হবে।



