মেক্সিকোয় ‘ব্যাটম্যান’! ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চোরদের শাস্তি, পুলিশের তদন্ত
মেক্সিকোয় ‘ব্যাটম্যান’! ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চোরদের শাস্তি

মেক্সিকোর জালিস্কো রাজ্যের লাগোস দে মোরেনো শহরে এক রহস্যময় ব্যক্তি মোটরসাইকেল চোরদের অদ্ভুত শাস্তি দিচ্ছেন। তিনি চোরদের ধরে ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে রাখছেন এবং তাদের মুখ বেঁধে দিচ্ছেন যাতে তারা চিৎকার করতে না পারে। এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে স্প্যানিশ ভাষায় ‘লাগোস দে মোরেনোর ব্যাটম্যান’ বা ‘মেক্সিকান ব্যাটম্যান’ নামে ডাকছে।

পাঁচটি ঘটনা নথিভুক্ত

জালিস্কো রাজ্যের নিরাপত্তাসচিব হুয়ান পাবলো হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি এ ধরনের ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুন, যখন এক ব্যক্তিকে ল্যাম্পপোস্টে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। তার বুকে ঝুলানো ছিল একটি কার্ডবোর্ডের সাইনবোর্ড, যাতে লেখা ছিল ‘চোর’। পরের দিনগুলোতে আরও চারজনকে একইভাবে শহরের বিভিন্ন স্থানে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শাস্তির ধরন ও সতর্কবার্তা

শুধু বেঁধে রাখাই নয়, চোরদের কপালে স্প্যানিশ ভাষায় ‘রাতেরো’ (চোর) লেখা হয়েছে। কারও কারও মুখে বিড়ালের মতো গোঁফ ও দাড়ি এঁকে দেওয়া হয়েছে। তাদের পাশে একটি সতর্কবার্তা এবং চুরি করা মোটরসাইকেল প্রমাণ হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শরীরে কাটার দাগ, কালশিটে ও মুখে রক্ত ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাদের আগে মারধর করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত ও আইনি অবস্থান

পুলিশ এই রহস্যময় ব্যক্তিকে খুঁজছে। তারা দুটি গাড়ি শনাক্ত করেছে যা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বেঁধে রাখা ব্যক্তিরা বর্তমানে হামলার শিকার বা ভুক্তভোগী, কারণ অপরাধ প্রমাণের আগেই তাদের ওপর বেআইনিভাবে হামলা ও আটক করা হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এসে তাদের বাঁধন কেটে মুক্ত করেন এবং চিকিৎসা দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেক্সিকোর অপরাধের প্রেক্ষাপট

মেক্সিকোতে অপরাধের হার অনেক বেশি। শুধু ২০২৩ সালে ৩৬ হাজারের বেশি গাড়ি ছিনতাই হয়েছে। সরকারি হিসাবমতে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে কোনো না কোনো মোটরবাইক জড়িত। জালিস্কো রাজ্য এবং পাশের মেক্সিকো রাজ্য মিলিয়ে দেশের অর্ধেকের বেশি চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শহরের দুর্বল আইনব্যবস্থা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ হয়ে এই ব্যক্তি নিজেই অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।