সৌদি আরবের অসহযোগিতায় ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ
সৌদি অসহযোগিতায় ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম বন্ধ

হোয়াইট হাউসে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সামরিক কমান্ডাররা একটি বড়সড় উভয়সংকটে পড়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার হতে সহায়তা করতে এক নতুন অভিযানের ঘোষণা দেন তাঁরা। কমান্ডাররা জানিয়েছিলেন, একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরান যদি কোনো আক্রমণ চালায়, তবে এ অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী তা প্রতিহত করবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড হঠাৎ চমকে যায়, যখন সৌদি আরবের কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, মার্কিন বাহিনী এ অভিযানের জন্য দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রজেক্ট ফ্রিডমের পতন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এ অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। কর্তৃপক্ষ এ অভিযানের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আগে কোনো পরামর্শ করেনি। ঘটনাটি কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং সৌদি আরবের নেতা যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে একের পর এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও জরুরি ফোনালাপ শুরু হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ৪ মে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে যুবরাজের সঙ্গে কথা বলেন। পরের দুই দিনও তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলাদাভাবে ফোনে কথা বলেন। একইভাবে কথা বলেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও কথা বলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু মার্কিন পরিকল্পনাটি নতুন করে যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরু করার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

সৌদি আরবের অবিশ্বাস

ওয়াশিংটনের ‘আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক হুসেইন ইবিশ বলেন, ‘তারা (সৌদি আরব) ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। ভেবেছিল, যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়, তবে ইরানের কাছ থেকে তাদের আরও অনেক বড় ও ভয়াবহ আঘাত সইতে হবে।’

যুবরাজকে নিজেদের পক্ষে টানার জন্য হোয়াইট হাউসের এ সর্বাত্মক চেষ্টার খবরটি এর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। যুদ্ধের এই ঘটনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো থেকে স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন এবং সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দিন দিন বাড়ছে। সৌদি আরব এখন মার্কিন সরকারকে ক্রমেই অবিশ্বস্ত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে সৌদি আরব তার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় একটি মধ্যপন্থা বা ভারসাম্যপূর্ণ পথ অনুসরণের চেষ্টা করে আসছে। শুরুতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়েছিল এবং এর ফলে ইরানের হামলার শিকারও হয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে নিজের দেশের ওপর বড় ধরনের বিপদ আঁচ করতে পেরে সৌদি আরব বেশ কিছু সংকটময় মুহূর্তে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা এবং নিজেদের শক্তি প্রকাশ করে।

সৌদি আরবের স্বাধীন নীতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, তখন সৌদি আরব মার্কিন অগ্রাধিকারকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব উদ্যোগেই পথ চলছে। দেশটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও চীন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতাতেই সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার জোড়া লেগেছিল। এমনকি এ সপ্তাহেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফর করেছেন।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কারণে সৌদি কর্মকর্তারা এখন সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলছেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভান্ডার এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোকে ইরানের দেওয়া সমর্থন। এসবের প্রতিটি বিষয়ই সৌদি নেতৃত্ব পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করে।

যুদ্ধকালীন কূটনীতি

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পুরো বছরজুড়ে এ ভারসাম্য বজায় রাখার রাজনীতি করে গেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেছিলেন। পরে তিনিই আবার ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ও ইরান সরকারকে পুরোপুরি ধ্বংস করার অনুরোধ করেছিলেন (সৌদি আরব এ দাবি অস্বীকার করেছে)। কিন্তু হামলার পরও ইরানের সামরিক শক্তি যখন অপরিবর্তিত থেকে যায়, তখন যুবরাজ একটি স্থায়ী মীমাংসার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।

যুদ্ধের একপর্যায়ে সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে গোপন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার বিষয়ে আরব আমিরাতের নেতার মতো সৌদি যুবরাজ ততটা উৎসাহী ছিলেন না। একই সময়ে, কাতার ও ওমানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের তুলনায় যুবরাজের অবস্থান অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। উল্লেখ্য, কাতার ও ওমান মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।

মার্কিন-সৌদি সম্পর্কের টানাপোড়েন

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি অবশ্য বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চমৎকার সম্পর্ক’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত শোনেন এবং আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মার্কিন জনগণ এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যা সবচেয়ে ভালো, সে অনুযায়ীই সব সিদ্ধান্ত নেন।’

অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন-সৌদি অংশীদারত্ব এখনো বেশ শক্তিশালী। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির পর থেকে সৌদি আরবে কীভাবে একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করা যায়, তা নিয়ে দুই সরকারই কয়েক মাস ধরে আলোচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন খুব শিগগির এ পরিকল্পনা মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করতে পারে। যদিও কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন যে সৌদি যুবরাজ এ সুযোগে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও রিয়াদ এমন কিছু স্থলপথ বা সড়কপথ তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা করছে, যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে সরাসরি যাতায়াত করা যায়। এছাড়া সৌদি আরব এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই মেয়াদের দায়িত্বকালেই তাঁর প্রথম বড় ধরনের বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুবরাজ বিন সালমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সরকারের কোনো পদে না থাকা সত্ত্বেও কুশনার প্রায়ই রিয়াদে যাতায়াত করেন। চার বছর আগে যুবরাজের নেতৃত্বাধীন একটি তহবিল থেকে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ পেয়েছিলেন কুশনার।

এত কিছুর পরও, যুদ্ধ চলাকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যেই যুবরাজকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছিলেন। গত মার্চে মিয়ামিতে সৌদি আরবেরই আয়োজিত একটি বিনিয়োগ ফোরামে ট্রাম্প বেশ অবমাননাকর ভাষায় বলেছিলেন যে যুবরাজ তাঁকে ও তাঁর প্রশাসনকে কতটা কম মূল্যায়ন করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি (যুবরাজ) কখনো ভাবেননি যে তাঁকে এভাবে আমার পায়ে তেল দিতে হবে।’

কূটনৈতিক ইঙ্গিত

দুই দেশের সম্পর্কের এ টানাপোড়েনের আরও কিছু লক্ষণ স্পষ্ট। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠক করলেও, সৌদি সফর পুরোপুরি এড়িয়ে যান।

গত বৃহস্পতিবার বাহরাইনে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কূটনীতিকেরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানাতে রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন।

যৌথ বৈঠকে রুবিও বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে এই মিত্রতা একটি বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিল এবং এটি সেই পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মানে হলো, আমাদের মধ্যে সহযোগিতা, যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের যে স্তরটি ছিল, এ কঠিন সময়ে তা দারুণভাবে সফল প্রমাণিত হয়েছে।’

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির ফলে সৌদি আরব আপাতত স্বস্তি পেয়েছে, তবে যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া কোনো জটিল সমস্যারই সমাধান এ প্রাথমিক চুক্তির মাধ্যমে হয়নি। প্রথমত, চুক্তিটি স্বীকার করে নিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে একমত হতে পারবে; যার ফলে দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক বা ফি ধার্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে অবসর নেওয়া এবং এর আগে সৌদি আরবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ কূটনীতিক মাইকেল র‍্যাটনি বলেন, ‘ইরান যেদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল, সেদিনই উপসাগরীয় দেশগুলোর পুরো মনস্তত্ত্ব বদলে গেছে। এখন ইরানের হাতে এমন এক ঝুলন্ত তলোয়ার রয়েছে, যা দিয়ে যেকোনো সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের ও বৈশ্বিক অর্থনীতি জিম্মি করতে পারবে তারা।’

এই প্রাথমিক চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোকে দেওয়া তার সমর্থনের বিষয়েও কোনো কথা বলা হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন আদৌ ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে আনতে পারবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। এর আগে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওবামা আমলের সেই পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়েছিলেন, যা ইরান মেনে চলছিল। আর মার্কিন প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্তের পরই ইরানি নেতারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন।

তবে প্রকাশ্যে সৌদিরা ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের সই করা সমঝোতা স্মারকের প্রশংসাই করছেন, যা মূলত এ যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করেছে। গত ১৮ জুন ভিয়েনায় একটি ফোরামে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আশা করা যায়, এটি এই সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং এর চেয়েও বড় কথা, অনেকগুলো অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের পথ খুলে দেবে। অবশ্যই এগুলোর মধ্যে (ইরানের) পারমাণবিক ইস্যুটিই প্রধান।’

কিন্তু বাস্তবে এ চুক্তির চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে সৌদি কর্মকর্তারা ‘ধীরে চলো’ এবং ‘দেখো ও অপেক্ষা করো’ নীতি অবলম্বন করছেন। উদাহরণ হিসেবে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তার আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছ থেকে ইরান পুনর্গঠনের জন্য তহবিলের কথা বলা হলেও, সৌদি আরব এ পর্যন্ত এই পুনর্গঠন কাজের জন্য কোনো অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

{অনুবাদ: মো. আবু হুরাইরাহ্}