টরন্টো স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব বত্রিশের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয়তার শেষ নেই।
প্রথমার্ধে পর্তুগালের আধিপত্য, গোলশূন্য বিরতি
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, রাফায়েল লিয়াও, জোয়াও কানসেলো এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের কাছে বারবার ব্যর্থ হন। লিভাকোভিচ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডদের সামনে রীতিমতো চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে তেমন কোনো আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে নাটকীয় মোড়
বিরতির পর মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ৫৩ মিনিটে স্তানিসিচের নিখুঁত ক্রস থেকে বল পেয়ে নিচু শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই তিন মিনিট পর আবারও পর্তুগালের জালে বল জড়িয়েছিল ক্রোয়েশিয়া, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
এরপর শুরু হয় ‘রোনালদো শো’। ৬১ মিনিটে কানসেলোর পাস ধরে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন রোনালদো, কিন্তু অত্যন্ত সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে ভিএআর তার সেই গোলটি বাতিল করে দেয়। তবে তিন মিনিট পর ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডারের ভেইগার জার্সি টেনে ধরার অপরাধে ভিএআর রিভিউ দেখে পর্তুগালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। ৬৮ মিনিটে স্পটকিকে সোজাসুজি বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমেই নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের দেখা পান তিনি।
শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা
সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৫ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মাতেও কোভাচিচের দূরপাল্লার শট এবং তার ফিরতি বল দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ৮০ মিনিটে আবারও বল জালে জড়ায় ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ৮১ মিনিটে রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, যা নিয়ে অধিনায়কের মুখে অসন্তোষ দেখা যায়।
খেলা যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখন যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিট) রাফায়েল লিয়াওয়ের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন বদলি নামা গনসালো রামোস। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে (১০৩ মিনিট) ইয়োস্কা গাভার্দিওল গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে ২-২ সমতায় ফেরান। ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে, কিন্তু রেফারি ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বোতল ছোড়ে, কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে। শেষ বাঁশি বাজার পর পর্তুগিজরা বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে, আর মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েন লুকা মদরিচ ও তার সতীর্থরা।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
এই জয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন নিশ্চিত করে পর্তুগাল। আগামী সোমবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়) কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে স্পেন।



