রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই বোন আহত
রাঙামাটির কুতুকছড়ি ইউনিয়নে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সোয়া ছয়টার দিকে এক হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে গুলিতে আহত হয়েছেন তাঁর দুই বোন। নিহত ব্যক্তির নাম ধর্মশিং চাকমা (৩৯), যিনি কুতুকছড়ির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ধনঞ্জয় চাকমার ছেলে। তিনি ইউপিডিএফের (প্রসীত) যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহত দুজন হলেন ধর্মশিংয়ের দুই বোন ভাগ্যশোভা চাকমা (৩১) ও কৃপাসোনা চাকমা (৪৫)। তাঁদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈকত আকবর জানান, দুজনের হাতেই গুলি লেগেছে এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল করার পর চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
ইউপিডিএফের (প্রসীত) সংগঠক ও মুখপাত্র অংগ্য মারমা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই গুলিতে হতাহতের ঘটনাটি সত্য। তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ইউপিডিএফের আরেক সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হামলার সময় ধর্মশিং চাকমা নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তখন ১৭ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে, যাতে তাঁর বুকে ও কোমরে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
জেএসএসের প্রতিক্রিয়া
হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জেএসএস সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। জেএসএসের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি গঙ্গা মানিক চাকমা বলেন, ‘ওই এলাকায় আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই। ইউপিডিএফ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’ একইভাবে, জেএসএসের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা প্রথম আলোকে জানান, ‘এ ঘটনার সঙ্গে জেএসএসের কেউ জড়িত নয়। ইউপিডিএফ পার্বত্য চুক্তি বিরোধিতার নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে নিজেরাই নানান প্রতিপক্ষের জন্ম দিয়েছে। এ কারণে অনেকেই ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেমেছেন।’
পুলিশের তদন্ত
রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন সকাল ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, গোলাগুলিতে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তিনি ঘটনার তদন্ত চলমান বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



