চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার ছেলে ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তার স্ত্রী নারগিছ আক্তার (২৫)। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা ছিলেন।
টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, রেহেনা বেগম তার বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রবাসী ছেলে বেলাল নিয়মিত মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে কাশেম সেই টাকা মায়ের কাছে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন, যা নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত। এই বিরোধের জেরেই গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও তার স্ত্রী নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া
এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রেহেনা বেগমের ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে র্যাবের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে কাশেম ও নারগিছকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব-৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনের কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
অপরাধ ও সামাজিক প্রভাব
এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা পারিবারিক বিরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের একটি উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন ঘটনাগুলো সামাজিক সচেতনতা ও আইনের শাসন জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। র্যাবের দ্রুত পদক্ষেপ অপরাধ দমনে তাদের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, তবে পরিবারিক কলহ নিরসনে সামাজিক উদ্যোগও জরুরি বলে মত দেন বিশ্লেষকরা।



