পাকিস্তানে ভারত-সমর্থিত ১৩ জঙ্গি নিহত, আইএসপিআর অভিযানের তথ্য প্রকাশ
পাকিস্তানে ভারত-সমর্থিত ১৩ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানে ভারত-সমর্থিত ১৩ জঙ্গি নিহত, আইএসপিআর অভিযানের তথ্য প্রকাশ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে দুটি পৃথক অভিযানে ভারত-সমর্থিত ১৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসপিআর বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

আইএসপিআরের বিবৃতি অনুযায়ী, জঙ্গিদের উপস্থিতির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খাইবার জেলার বারা এলাকা এবং বান্নু জেলায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বারা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়, যেখানে তীব্র গোলাগুলির পর ১০ জন জঙ্গি নিহত হয়। অন্যদিকে, বান্নু জেলায় পরিচালিত অভিযানে আরও তিনজন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে।

তল্লাশি অভিযান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এলাকায় অন্য কোনো ভারত-সমর্থিত জঙ্গি লুকিয়ে আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অভিযান (স্যানিটাইজেশন অপারেশন) চালানো হচ্ছে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে আজম-ই-ইস্তেহকাম অভিযানের আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানে, বিশেষ করে কেপি ও বেলুচিস্তান প্রদেশে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান অপারেশন গাজাব লিল-হক নামে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে, যেখানে প্রায় ৬৮৪ জন আফগান তালেবান সদস্য ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৯০০-র বেশি আফগান তালেবান সদস্য আহত হয়েছেন এবং ২৫২টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগান তালেবান ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের আকস্মিক হামলার জেরে দুদেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষও হয়, যাতে ২০০-র বেশি তালেবান ও সহযোগী জঙ্গি নিহত এবং পাকিস্তানের ২৩ জন সেনা সদস্য নিহত হন।

আলোচনা ও বর্তমান অবস্থা

তবে একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আফগান তালেবান সরকারের অনীহার কারণে দুদেশ এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানগুলো সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।