টেকনাফে মানবপাচার চক্রের কবল থেকে নারী-শিশুসহ ৭ জন উদ্ধার
কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটক রাখা নারী ও শিশুসহ মোট ৭ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খবর পায় যে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকজন নারী ও শিশুকে টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বসতবাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকাল ৪টায় কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি থাকা নারী ও শিশুসহ ৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পাচারকারীদের কৌশল ও পরবর্তী ব্যবস্থা
উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় গমনে উদ্বুদ্ধ করে সাগর পথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মানবপাচার বিরোধী অভিযান জোরদার করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপকর্ম রোধে সক্রিয় থাকবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।



