ভারতে নৌ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে হত্যা ও দেহ খণ্ডনের অভিযোগ
ভারতে নৌ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রেমিকা হত্যা ও দেহ খণ্ডন

ভারতে নৌ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে হত্যা ও দেহ খণ্ডনের অভিযোগ

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা চিন্তাদা রবীন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তার প্রেমিকা পলিপাল্লি মৌনিকাকে হত্যার পর তার দেহ থেকে মাথা, হাত ও বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রবীন্দ্রের স্ত্রী তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সুযোগে তিনি প্রেমিকা মৌনিকাকে নিজ বাড়িতে ডেকে আনেন। সেখানে দুইজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। পুলিশের বর্ণনা অনুসারে, রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর তিনি অনলাইন থেকে একটি ছুরি কিনে নেন এবং তা দিয়ে মৌনিকার মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেন। খণ্ডিত দেহের কিছু অংশ ট্রলি ব্যাগে রাখা হয়, আবার কিছু অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর রবীন্দ্র স্বেচ্ছায় থানায় হাজির হয়ে তার দোষ স্বীকার করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্পর্কের পটভূমি ও বিরোধের কারণ

৩০ বছর বয়সী রবীন্দ্র ভারতের নৌ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ৩১ বছর বয়সী মৌনিকার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। এরপর তারা পার্ক ও থিয়েটারে নিয়মিত দেখা করতেন এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্পর্ক চলাকালীন মৌনিকা রবীন্দ্রের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। এছাড়া, মৌনিকা বারবার ভয় দেখাতেন যে সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রের স্ত্রীকে বলে দেবেন। এই আর্থিক বিরোধ ও সম্পর্ক ফাঁসের হুমকিই তাদের মধ্যে বারবার ঝগড়ার সূত্রপাত ঘটায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া

পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং রবীন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার স্বীকারোক্তি ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই নৃশংস ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ বলছে, তারা আরও তথ্য সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা চূড়ান্ত করবে।