ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোমায়, গুরুতর আহত
ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি কোমায়: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা সংকটজনক: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়ে কোমায় আছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন এবং অন্তত একটি পা হারিয়েছেন। পাশাপাশি তার পেট বা লিভারেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে তিনি আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

আহত হওয়ার সময়কাল নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যে দিন নিহত হন—গত ২৮ ফেব্রুয়ারি—সেদিনই তিনি আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ওইদিনের এক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এর প্রায় ৯ দিন পর, গত ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতালে কঠোর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা

গোপন একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে বর্তমানে তেহরানের ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থিত সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের একটি সুরক্ষিত অংশে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ওই অংশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং সাধারণ রোগী বা কর্মীদের সেখানে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন ইরানের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ রেজা জাফরগজানি। তিনি একজন অভিজ্ঞ ট্রমা সার্জন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দীর্ঘদিন যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ওই যুদ্ধে তিনি নিজেও রাসায়নিক অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। এছাড়া চিকিৎসা সহায়তায় রয়েছেন ‘শহীদ বেহেশতি ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেস’-এর জ্যেষ্ঠ সার্জন ডা. মোহাম্মদ মারাশি।

শারীরিক অবস্থা ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ‘খুবই সংকটজনক’। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে ‘রমজানের যোদ্ধা’ বা ‘যুদ্ধে আহত প্রবীণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এতে তার আহত হওয়ার বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই উল্লেখটি ইরানের সরকারি মাধ্যমের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবির সাথে কিছুটা মিলে যায়।

এই ঘটনাটি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে যখন দেশটি আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার মুখোমুখি। মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য সংকট ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।