গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে রাশিয়ার অস্বীকার, ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপে আলোচনা
চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে রাশিয়া—এমন গুঞ্জনের মধ্যে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, এই আলোচনায় রুশ নেতারা ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন।
উইটকফের সাক্ষাৎকারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গত মঙ্গলবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, 'তা–ই, বুঝতেই পারছেন, আমরা তাদের কথা সত্য বলে ধরে নিতে পারি। আশা করি, তারা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে না।' সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে তথ্য ভাগ করছে কিনা এবং যদি করে থাকে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন কেন রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।
জবাবে উইটকফ উল্লেখ করেন, 'দেখুন, আমি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নই, তাই আমি আপনাকে বলতে পারব না। আমি আপনাকে যেটা বলতে পারি, সেটা হলো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের সময় রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা তথ্য বিনিময় করছেন না। তারা এটাই বলেছে।'
ভারতের তেল কেনার শুল্কছাড় ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতকে ৩০ দিনের শুল্কছাড় দিয়েছে, যা গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেল কেনার জেরে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র শাস্তিস্বরূপ ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছিল।
অন্যান্য আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া
উইটকফ আরও জানান, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার সোমবার সকালে আলাদাভাবে পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের সঙ্গে কথা বলেছেন, যেখানে উশাকভও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে একই কথা বলেছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এমএস নাউ গত শনিবার দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, রাশিয়া ইরানকে এমন তথ্য দিচ্ছে যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ, যুদ্ধবিমান ও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সহায়তা করতে পারে।
এক কর্মকর্তা এমএস নাউকে বলেছিলেন, রাশিয়া গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে। তবে শনিবার আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, 'আমি এমন কিছু দেখিনি, যাতে মনে হয় যে রাশিয়া কোনো কৌশলগত বা ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে।' গত শুক্রবার ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদককে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন, যখন তাকে রাশিয়ার ইরানকে সহায়তা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ট্রাম্প জবাবে বলেন, এই সময়ে এমন প্রশ্ন করা বোকামি।
সোমবার পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার নেতা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি দেখে 'মুগ্ধ হয়েছেন'। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়ে রাশিয়ার অস্বীকার সত্ত্বেও সংশয় রয়েই গেছে।
