চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রুপের তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ
চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রুপের তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রুপের তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে এসএমজি, পিস্তল ও রিভলবারসহ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশ প্রথমে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলবার ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়, যা পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।

আব্দুল কাইয়ুমের তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ মনিরকে ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে। এই পিস্তলটি ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। পরবর্তীতে, মনিরের তথ্য অনুযায়ী, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে সায়েমকে গ্রেফতার করা হয় এবং খুলশী থানা এলাকা থেকে তার নির্দেশে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

অপরাধের পটভূমি

গ্রেফতারকৃত তিন সন্ত্রাসী শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। তারা সাজ্জাদের নির্দেশে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্রভাবে অংশ নিত। বিশেষ করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে গুলি করার ঘটনায় এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

আব্দুল কাইয়ুম ২০০০ সালে বহদ্দারহাটে সংঘটিত আট হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তার কাছ থেকে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। মনির ও সায়েমের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১০টি করে মামলা রয়েছে।

অস্ত্রের উৎস ও পরীক্ষা

উদ্ধারকৃত তিনটি অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ও রিভলভার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নগরের ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হয়েছিল। এসএমজিটি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে কেনার কথা গ্রেফতার সন্ত্রাসীরা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর ব্যালিস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

এই অভিযান চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা তুলে ধরে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।