বাহরাইনে ইরানের হামলার প্রশংসায় বাংলাদেশিসহ ছয় বিদেশি গ্রেপ্তার
বাহরাইনে ইরানের হামলার প্রশংসায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

বাহরাইনে ইরানের হামলার প্রশংসায় বাংলাদেশিসহ ছয় বিদেশি গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রশংসা করার অভিযোগে একজন বাংলাদেশিসহ ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে বাহরাইন পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মোহাম্মদ ইসরাফিল মীর। বাকি পাঁচজন পাকিস্তানি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

বাহরাইন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন

সোমবার (৯ মার্চ) বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বাহরাইন নিউজ এজেন্সি এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব অ্যান্টি-করাপশন, ইকোনমিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক সিকিউরিটির অধীনে অ্যান্টি-সাইবার ক্রাইম ডিরেক্টরেট একটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ইরানের আগ্রাসন ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করেছেন এবং সেসব কর্মকাণ্ডের প্রতি সক্রিয়ভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে মনে করছে, এসব কর্মকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এদিকে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা হচ্ছে বাহরাইনে।

হামলার ছবি বা ভিডিও যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি ও মনিটরিং চালাচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো বা শত্রুদেশের পক্ষে সহানুভূতি প্রকাশ করা বাহরাইনের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা এই গ্রেপ্তারের পিছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার অপরাধ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে, বিশেষ করে যখন সংঘাতময় অঞ্চলে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।