ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় তেলাগারে আগুন, কালো বৃষ্টিতে আতঙ্ক
৮ মার্চ ইরানের তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় তেল সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই হামলার ফলে তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের অন্তত চারটি বড় তেল সংরক্ষণাগার এবং একটি তেল স্থানান্তর কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডের পর কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে কালো বৃষ্টির রূপ নেয়।
কালো বৃষ্টির কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
যুক্তরাজ্যের লিসেস্টার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী আন্না হ্যানসেলের মতে, অপরিশোধিত তেল পোড়ার সময় প্রচুর পরিমাণে কার্বন কণা ও কালি তৈরি হয়, যা ধোঁয়ার মাধ্যমে আকাশে মিশে যায়। বৃষ্টির ফোঁটা এই দূষিত কণাগুলোকে ধুয়ে মাটিতে নিয়ে আসে, ফলে বৃষ্টির পানির রং কালো হয়ে যায়। এছাড়া, তেল পোড়ার ফলে সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস তৈরি হয়, যা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর প্রভাব
এই কালো বৃষ্টি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং এতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী পলিয়ারোমেটিক হাইড্রোকার্বন, কংক্রিট, কাচ ও প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা থাকতে পারে। সরাসরি সংস্পর্শে এলে ত্বক, চোখ ও গলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আরও গুরুতরভাবে, বাতাসে ভাসমান ধোঁয়ার সূক্ষ্ম কণা নিশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই দূষণ খাদ্য শৃঙ্খলেও প্রবেশ করতে পারে, যেখানে ফসল, গবাদিপশু ও মাছে বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়ে মানবস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। বিজ্ঞানী হ্যানসেল সতর্ক করেছেন যে, এই ঘটনা ১৯৫২ সালের লন্ডনের গ্রেট স্মগের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
এই দূষণ শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়; ধোঁয়ার সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ভেসে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিবেশগত এই ক্ষতি কোনো সীমানা মানে না বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সুরক্ষা ব্যবস্থা
এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির ভেতরে থাকা, ভালো মানের ফেস মাস্ক ও গগলস ব্যবহার করা এবং দূষিত পানি এড়িয়ে বোতলজাত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।
