খুলনায় যুবদল নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড: স্থানীয় কোন্দল ও সন্ত্রাসীদের ভূমিকা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে সেনহাটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সামনে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ব্যক্তি মুরাদ হোসেন খান (৩৬) দিঘলিয়া উপজেলার হাজীগ্রামের খান মুনসুর আহমেদের ছেলে এবং সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বালুর ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বীভৎস বিবরণ ও চিকিৎসা প্রতিবেদন
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) সূত্র থেকে জানা গেছে, নিহত মুরাদ হোসেন খানের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে উপর্যুপরি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। এছাড়া তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং শরীরে মারপিটের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যমান। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের (মর্গ) সামনে নিহতের স্বজনরা বর্ণনা করেছেন, সেনহাটি গ্রামের বক্সিবাড়ির সাজ্জাদ, সজিব ও তার ভাইয়েরা রোজা থাকা অবস্থায় প্রথমে মুরাদকে বেদম মারধর করে। পরে তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার ক্রমবিকাশ ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্য
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর দৌলতপুরে ব্যবসার কাজ শেষ করে মুরাদ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি সেনহাটির বড়বাড়ি টিটিসির সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় উপর্যুপরি ধারালো ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু দৃঢ় ভাষায় বলেন, স্থানীয় কোন্দলের জেরে যুবদল নেতা মুরাদ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, হত্যাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, হত্যাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। দিঘলিয়া থানার ওসি মো. শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মুরাদ হোসেন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকারীরা ছাত্রদলের কর্মী ও এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হতে পারে। তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খুলনায় সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট
এই ঘটনার আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে নগরীর খানজাহান আলী আফিল গেটে একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন গ্যারেজের সামনে শেখ সোহেল নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সোহেল মাছের ঘের ও ইন্টারনেটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খুলনায় ক্রমাগত এমন সহিংস ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুততর করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক মহল। পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
