ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার জন্য পিটিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাল
ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য পিটিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার জন্য পিটিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাল

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করে দলটি ইমরান খানের চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

আবেদনের মূল দাবিসমূহ

পিটিআই-এর আইনজীবী লতিফ খোসা সুপ্রিম কোর্ট রুলস ২০২৫-এর ৩৫(৬) বিধি অনুযায়ী তোশাখানা ফৌজদারি মামলায় এই পিটিশন দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের তৈরি একটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আবেদনে প্রধানত নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে:

  • রেটিনা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হোক।
  • তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. ফয়সাল সুলতান ও ড. অসীম ইউসুফের হাসপাতালে উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হোক।
  • চিকিৎসার সময় পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার অনুমতি প্রদান করা হোক।
  • আইনজীবীদের কাছে সব মেডিকেল রিপোর্টের সত্যায়িত কপি হস্তান্তর করা হোক।

ইমরান খানের স্বাস্থ্য অবস্থা

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দলটি জানিয়েছে, তার চোখের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি বারবার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আদালতে পেশ করা একটি মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানান, চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে এক চোখে ইমরানের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক ৬/৬ এবং অন্য চোখে ৭০ শতাংশ আছে। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম তার চিকিৎসায় সন্তুষ্ট এবং তারা বিরোধীদলীয় নেতা ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেছেন।

আদালতের অবস্থান ও মামলার প্রেক্ষাপট

সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের একটি বেঞ্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তোশাখানা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান বর্তমানে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় আদিয়ালা জেলে সাজা ভোগ করছেন। এছাড়া ৯ মে'র বিক্ষোভ সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাগুলোতেও তার বিচার চলছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে একটি সেশনের মাধ্যমে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান এবং সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসকে ইমরানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। কর্মকর্তাদের মতে, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তখন চিকিৎসার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

হাতে পাওয়া একটি মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৩৬ থেকে উন্নত হয়ে ৬/৯ হয়েছে এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চশমা সহ ৬/৬ পাওয়া গেছে। আদিয়ালা জেলে ড. নাদিম কুরেশি ও ড. আরিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড এই পরীক্ষা করে।

পিটিআই-এর এই আবেদনের পর ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও আইনি অবস্থা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার চিকিৎসা ও আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।