কেরানীগঞ্জ মাদ্রাসা বিস্ফোরণ মামলায় প্রধান আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রধান আসামি আল আমিনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। বিচারক মো. মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন।
বিস্ফোরণের ঘটনা ও তদন্তের বিস্তারিত
গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার ওই মাদ্রাসা ভবনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কক্ষের চারপাশের দেয়াল ও ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দুই দিনব্যাপী ওই অভিযানে আল-আমিনের ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। উদ্ধার উপকরণের মধ্যে রয়েছে:
- হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড
- এসিটোন
- নাইট্রিক অ্যাসিড
- ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক
- কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো ৯টি তাজা ককটেল
মামলার আইনি প্রক্রিয়া ও আসামিদের তালিকা
এই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম লিটন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় সাতজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত তদন্তকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের মতে, জব্দকৃত উপকরণগুলি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে।
