শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেফতার: ইস্টার বোমা হামলার অভিযোগ
শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেফতার

শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান গ্রেফতার: ইস্টার বোমা হামলার অভিযোগ

শ্রীলঙ্কার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সাল্লেকে ২০১৯ সালের ইস্টার সানডে বোমা হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হামলায় প্রায় ২৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন এবং দেশটির পর্যটন অর্থনীতি মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেফতার আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর-জেনারেল সুরেশ সাল্লে রাজধানীর একটি প্রান্তিক এলাকায় ভোরে আটক হন। তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তাকে ইস্টার সানডে হামলায় সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তের একটি ফলাফল, যা হামলার পেছনের রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সংযোগগুলো উন্মোচনে সাহায্য করতে পারে।

হামলার পটভূমি ও প্রভাব

২০১৯ সালের ইস্টার সানডে ছয়টি প্রায় সমান্তরাল আত্মঘাতী বোমা হামলা সংঘটিত হয়, যা তিনটি চার্চ এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে প্রাতঃরাশ চলাকালীন সময়ে ঘটে। এ হামলায় ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয় এবং ৪৫ বিদেশি নাগরিক নিহত হন। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করা হলেও, সাল্লেকে হামলা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও করা হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

সাল্লে ২০১৯ সালে গোতাবায়া রাজাপক্ষ শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (SIS)-এর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ চ্যানেল ফর রিপোর্টে বলা হয়, সাল্লে হামলাকারীদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং তাদেরকে হামলা করার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাটি ঐ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গোতাবায়া রাজাপাকসের পক্ষে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

বোমা হামলার দুই দিন পর রাজাপাকসে তার প্রার্থীতা ঘোষণা করেন এবং নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হন, সহিংসতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে। রাজাপাকসে বিজয়ের পর সাল্লে SIS প্রধান হন, তবে ২০২৪ সালে অনুরা কুমারা ডিসানায়াকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং হামলার সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এই গ্রেফতার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

এই ঘটনা শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিচার ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এর ফলাফল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।