যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পারিবারিক বিরোধে ছুরিকাঘাতে চারজনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন রাজ্যের টাকোমা শহরে এক ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে ৩২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারীও প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে ‘কি পেনিনসুলা’ এলাকার একটি বাড়ির সামনে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পিয়ার্স কাউন্টির শেরিফ অফিস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং চতুর্থজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাদকাসক্তি ও মানসিক সমস্যায় ভোগা এক যুবকের পারিবারিক বিরোধের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে পুলিশের কাছে একটি ‘নো-কন্ট্যাক্ট’ আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ আসে। মূলত এক নারী তার মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের এই সুরক্ষা আদেশ চেয়েছিলেন। পুলিশ যখন সেই আদেশের অনুলিপি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে যায়, তখন তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বাড়ির বাইরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও হামলাকারীর মৃত্যু
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হামলাকারী উন্মত্ত আচরণ শুরু করলে পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে এবং এর তিন মিনিট পর গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। সংবাদ সংস্থা এপি-র তথ্যমতে, যে বাড়ির সামনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, তার মালিক ওই হামলাকারীর মা। তিনি তার ছেলের ক্রমাগত হুমকি ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
আদালতের নথিতে ওই নারী উল্লেখ করেছিলেন যে, তার ছেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদ নষ্ট করেছে এবং তার পোষা বিড়ালকেও আঘাত করেছে। এই সুরক্ষা আদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীর হাতে পৌঁছানোর আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যায়।
তদন্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
পুলিশ এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তি বা হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেনি এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে। এই ঘটনাটি ওই এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার মূল কারণ আরও বিস্তারিতভাবে জানার জন্য পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ করছে। পারিবারিক সহিংসতার এমন চরম পরিণতি স্থানীয় কমিউনিটিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও মাদকাসক্তির সমন্বয়ে সৃষ্ট এই সহিংসতা রোধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বর্তমানে ঘটনাস্থলটি ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এই ঘটনা পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
