জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সুদানে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এই হামলাগুলো সংঘাতকে 'নতুন, আরও মারাত্মক পর্যায়ে' নিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ড্রোন হামলার তীব্রতা
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে যুদ্ধরত সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) উভয়ই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সারা দেশে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, তাদের সুদান টিম নির্ধারণ করেছে যে জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৮৮০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যা সংঘাত সম্পর্কিত মোট বেসামরিক মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'সশস্ত্র ড্রোন এখন বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।' তিনি আরও বলেন, ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বর্ষা মৌসুমেও যুদ্ধ 'অবিরাম' চালিয়ে যেতে দিচ্ছে, যা অতীতে কিছুটা শান্ত থাকত।
আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
তুর্ক সতর্ক করে বলেন, 'আগামী সপ্তাহগুলোতে শত্রুতা তীব্র হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা বিশাল এলাকাজুড়ে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।' সুদানে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত, ১১ মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত এবং বেশ কয়েকটি অঞ্চল দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে।
তুর্ক সতর্ক করে বলেন, 'এখনই ব্যবস্থা না নিলে এই সংঘাত আরও নতুন, আরও মারাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।'
হামলার লক্ষ্যবস্তু
বছরের প্রথম তিন মাসে ড্রোন হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের অধিকাংশ মৃত্যু কর্ডোফান ও দারফুর অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়েছে। এই হামলা অব্যাহত রয়েছে; সম্প্রতি ৮ মে দক্ষিণ কর্ডোফানের আল কউজ এবং উত্তর কর্ডোফানের এল-ওবেইদের কাছে ড্রোন হামলায় ২৬ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছে বলে মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, যুদ্ধরত পক্ষগুলো বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোতে বারবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে, 'যার ফলে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার হ্রাস পেয়েছে।' বাজারগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে; বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ২৮টি এমন হামলায় বেসামরিক হতাহত হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোও কমপক্ষে ১২ বার আক্রান্ত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ড্রোন হামলার বিস্তার
এখন আরএসএফ এবং সুদানের সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলা কর্ডোফান ও দারফুরের বাইরে ব্লু নাইল, হোয়াইট নাইল এবং খার্তুম পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে বলে মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে। তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বর্ধিত সহিংসতা জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে ব্যাঘাত ঘটাবে।
তিনি বলেন, 'কর্ডোফানসহ দেশের বেশিরভাগ অংশ এখন দুর্ভিক্ষ এবং তীব্র খাদ্য সংকটের ঝুঁকির মুখে।' তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সার সংকট পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।



