সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে উদ্ধার রান্না করা হরিণের মাংস
সাতক্ষীরায় মাছের ঘের থেকে উদ্ধার হরিণের মাংস

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা গ্রামে একটি মাছের ঘের থেকে রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কেজি রান্না করা হরিণের মাংস উদ্ধার করেন।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরে কিছু বহিরাগত শ্রমিক কাজ করছেন। প্রতি রাতে সেখানে যেন উৎসব হতো। বাইরে থেকেও অনেকে আসতেন। রান্না করা হতো মাংস, তবে কিসের মাংস তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারতেন না। বন বিভাগের অভিযানে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে তাঁরা হরিণের মাংস রান্না করছিলেন।

ঘের মালিকের বক্তব্য

ঘেরের মালিক শেখ মিজানুর রহমান বলেন, তাঁর ঘেরে এক্সক্যাভেটর যন্ত্র দিয়ে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি পরিচয় নেই। শ্রমিকেরা নিজেরাই বাজার করেন ও রান্না করে খান বলে জানান তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন বিভাগের পদক্ষেপ

সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে রান্না করা প্রায় ১০ কেজি পরিমাণ হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি প্রক্রিয়া

বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় হরিণ শিকার ও মাংস ভক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্য প্রাণী ও সুন্দরবন রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, বন্য প্রাণী বিশেষ করে হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। না হলে শুধু হরিণ নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় রান্না করা মাংসের ধোঁয়া উড়ছিল এবং খাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। হঠাৎ বন বিভাগের সদস্যদের আগমনে সবাই খাবার রেখে পালিয়ে যায়। পরে বন বিভাগের সদস্যরা মাংস উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।