লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির পাশের বাগানে মাটির নিচে তৈরি করা বিশাল সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রবেশপথটি বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে ঢাকা থাকায় বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ভেতরে ওঠানামার সিঁড়ি, বিছানা ও বালিশসহ নানা সামগ্রী ছিল।
সুড়ঙ্গের বিবরণ ও ব্যবহার
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই সুড়ঙ্গটি মাদক সেবন ও বিক্রির গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভেতরে তিন থেকে চারজন একসঙ্গে অবস্থান করতে পারতেন। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুজন সাহা নামের এক যুবক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলেন। তিনি নিয়মিত এখানে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
পরিবারের বক্তব্য
সুজন সাহার স্ত্রী বলেন, সুড়ঙ্গটি তাঁর স্বামী তৈরি করেছিলেন, তবে সেখানে মাদক সেবন করা হতো কি না, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি সুড়ঙ্গটির বিষয়ে জেনেছেন। যিনি এটি তৈরি করেছিলেন তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং মাদক সেবনের সুবিধার্থেই এই সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছিল।
পুলিশের ভূমিকা
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুড়ঙ্গটি শনাক্ত করে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে মাদক সেবন করা হতো বলে অভিযোগ করেন। পরে মাদক সেবন রোধে সুড়ঙ্গটি ভেঙে ফেলা হয়।



