চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার নিয়ে দ্বন্দ্বে কর্মচারী হত্যা, আদালত সিআইডিকে তদন্ত নির্দেশ
বিমানবন্দরে মুদ্রা পাচার নিয়ে দ্বন্দ্বে কর্মচারী হত্যা, সিআইডি তদন্ত

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার নিয়ে দ্বন্দ্বে কর্মচারী হত্যার ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক কর্মচারীকে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার–সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত শেষে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাচারের ৩৭ হাজার সৌদি রিয়াল পুরোপুরি ফেরত দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিমানবন্দরের দুই কর্মচারীসহ আটজন মিলে সিভিল এভিয়েশনের অফিস সহকারী উসমান সিকদারকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশ ফেলে দেন সড়কের পাশে।

আদালতের নির্দেশ: সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব

বাদীর অভিযোগ, মুদ্রা পাচারে জড়িত আরও অন্তত ১০ জনের নাম আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এলেও অভিযোগপত্রে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক মার্চ মাসের শেষ দিকে এ আদেশ দেন। সিআইডিতে তদন্তে আসার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

আদালত সূত্র জানায়, আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, মামলার দুই আসামি ইব্রাহিম খলিল ও ফারুক উদ্দিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁদের বিষয়ে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করেননি। এতে তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় সম্পূরক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও আসামিদের তালিকা

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি পতেঙ্গা থানা–পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। তাঁরা হলেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিল, নিরাপত্তাকর্মী বাদল মজুমদার এবং তাঁদের সহযোগী মো. আরিফ, মো. রাসেল, ফারুক উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মো. সুমন ও বাবর চৌধুরী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পতেঙ্গা এলাকায় বিমানবন্দর সংলগ্ন সরকারি কোয়ার্টারের বাসা থেকে উসমান সিকদারকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে বিমানবন্দর সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এমরান সিকদার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

জবানবন্দিতে মুদ্রা পাচারের বিস্তারিত তথ্য

আদালত সূত্র জানায়, আসামি ইব্রাহিম খলিলের দেওয়া জবানবন্দিতে বলা হয়, ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ফটিকছড়ির মো. রাসেল নামের এক ব্যক্তি ৩৭ হাজার সৌদি রিয়াল পাচারের জন্য উসমান সিকদারের সঙ্গে চুক্তি করেন। ওই টাকার একটি অংশ বিমানবন্দরের বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়ে যায়।

পরে রিয়াল ফেরত চাইতে থাকেন রাসেল। একপর্যায়ে উসমান সংশ্লিষ্টদের নাম ফাঁস করার হুমকি দেন। এ অবস্থায় সালিসের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়, কিন্তু বাকি টাকা দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উসমানকে অপহরণের পর হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

বাদীর প্রতিক্রিয়া ও সিআইডির তদন্ত অগ্রগতি

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই এমরান সিকদার বলেন, ‘আমার ভাইকে চাপ দিয়ে ৩৭ হাজার রিয়ালের বিপরীতে ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপরও তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ইব্রাহিম খলিল তাঁর জবানবন্দিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে মুদ্রা পাচারে জড়িত আরও ১০ জনের নাম বলেন। স্বীকারোক্তিতে আসা ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পতেঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল আলম বলেন, তদন্তে তাঁদের সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই তাঁদের অন্যত্র বদলি করা হয়।

আদালতের নির্দেশে বর্তমানে সিআইডি মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে। সিআইডির চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুদ্রা পাচারে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।’