চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে পঙ্কজ শীল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিলক শীল (৪০) নামে আরও এক যুবক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বুধবার (১০ জুলাই) পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রশালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা একজনকে আটক করতে সক্ষম হন, যার নাম আবিদুল ইসলাম। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক আবিদুলের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।
ঘটনার ধারা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কচুয়াইয়ের চক্রশালা এলাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় বোরকা পরিহিত একজনসহ তিনজনকে রাস্তার পাশে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় পঙ্কজ শীল ও তিলক শীল অপরিচিত ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন তিনজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে পঙ্কজ শীল ও তিলক শীলকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পঙ্কজ ও তিলক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যে পঙ্কজ শীল মারা যান। আহত তিলক শীলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য
কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পাভেল বিশ্বাস জানান, রাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং অন্যজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা জানান, হামলার পর তিনজনের মধ্যে দুজন পালিয়ে গেলেও বোরকা পরিহিত একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক ব্যক্তির বাড়ি গাইবান্ধা জেলার বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের কার্যক্রম
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ছিনতাইকারী দলের সদস্য। পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের হাতে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



