হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গোতে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই আগুন আগেরটির মতো দীর্ঘস্থায়ী বা ব্যাপক সম্পদহানির কারণ না হলেও, নিরাপত্তাবেষ্টিত এই স্পর্শকাতর স্থানে বারবার অগ্নিকাণ্ড বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগছে, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ থাকা এই কার্গোর ওপর কার কু-নজর পড়লো।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ৯ নম্বর গেট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটার এবং ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর একই এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেদিন আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট কাজ করে, পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও যোগ দেয়। ওই ঘটনায় কয়েকশ কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমানবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, কুরিয়ারের একটি কন্টেইনারে আগুন লেগেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ বলা সম্ভব নয়; তদন্তের পর জানা যাবে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে প্রশ্ন হলো শর্ট সার্কিট কেন হবে। আগের অগ্নিকাণ্ডেও তদন্ত রিপোর্টে শর্ট সার্কিট ছিল, তাই গাফিলতি রয়েছে বলে স্বীকার করতে হবে। তিনি শনিবার সকালের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং কারও গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিরাপত্তায় মোড়ানো স্পর্শকাতর কার্গো এলাকায় কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। সহ-সভাপতি খায়রুল আলম ভূঁইয়া বলেন, রাত ১২টার কাছাকাছি সময়ে পুরো নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় কেন অগ্নিকাণ্ড ঘটবে। এটি বিমানবন্দরের কার্গো এলাকা, যেখানে শত শত কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা শুধু তাদের ক্ষয়ক্ষতি নয়, পুরো দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এক ক্ষতির দাগ মুছতে না মুছতে আরেক দাগে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শত শত কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়েছিল এবং দেশি-বিদেশি সংস্থা তদন্ত করেছিল।



