সিডনির লিভারপুল ক্যাথলিক ক্লাব এক রঙিন রাতে সেজে উঠেছিল বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রাণের উৎসবে। বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (বিএমএস এনএসডব্লিউ) সম্প্রতি তাদের বার্ষিক নৈশভোজ ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে। অতিথি ও বিএমএস পরিবারসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ এই মিলনমেলায় অংশ নেন, যেখানে পেশাদারত্বের পাশাপাশি ছিল উষ্ণ বন্ধুত্ব, সংস্কৃতির আলো আর স্বদেশের সুর।
প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর
২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএমএস এনএসডব্লিউ আজ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি পেশাদার সংগঠন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, যার সদস্যসংখ্যা ৫ শতাধিক। এ বছর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পূর্ণ হলো। উপলক্ষটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রকাশিত হয়েছে বার্ষিক স্মারকপত্র ‘প্রতিধ্বনি’র অষ্টম সংখ্যা।
সভাপতির কথা: সীমানা ছাড়িয়ে, ওষুধের বাইরে
সংগঠনের সভাপতি মেহদি ফারহান স্মারকপত্রে লিখেছেন, বিএমএস এনএসডব্লিউয়ের মূল লক্ষ্য সব সময়ই নতুন আগত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত চিকিৎসক হওয়ার পথে সহযোগিতা করা। তিনি জানান, সংগঠনের অভিজ্ঞ শিক্ষা দল কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা অধিবেশন, কর্মশালা, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম এবং এএমসি প্রার্থীদের জন্য সাক্ষাৎকার প্রস্তুতির মাধ্যমে অমূল্য দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে।
মেহদি ফারহান আরও জানান, প্রতিবছর রেডক্রস অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় বিজয় দিবস উপলক্ষে রক্ত ও প্লাজমা দান এবং একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরির আয়োজন করে সংগঠনটি। তিনি কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে পরীক্ষার খরচে সংকটে পড়া চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন। করোনা মহামারির সময় বাংলাদেশের বাগেরহাট, নোয়াখালী, পাবনা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও সিলেটের প্রত্যন্ত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে এই সংগঠন।
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন, সিডনির কনসাল জেনারেল শেলি সালেহিন, লিভারপুলের স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যারিশমাসহ অন্যান্য অতিথি এই উৎসবে যোগ দিয়ে বিএমএস পরিবারের সঙ্গে সন্ধ্যাটি উপভোগ করেন।
শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছরের উৎসবে ‘একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া’সহ তিন কৃতী ব্যক্তিত্ব পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া’ এই সম্মাননা লাভ করে।
এ ছাড়া পুরস্কার পান সিডনির স্বনামধন্য চিকিৎসক ও পরামর্শক নেফ্রোলজিস্ট আহমেদ কাইথাল শাহির। সিডনির স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘ অবদান এবং বাংলাদেশি মেডিক্যাল স্নাতকদের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ পরামর্শদানের স্বীকৃতিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। একই পুরস্কারে ভূষিত হন সিডনির বিশিষ্ট চিকিৎসক আবদুল্লাহ জোবায়ের, যিনি বাংলাদেশে মানবিক কাজে নিজেকে সংযুক্ত রেখেছেন। এই পুরস্কার পান সিডনির আরেক বিশিষ্ট চিকিৎসক তামান্না পারভিন, যিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য মানুষের সেবা করেছেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী লুইপা ও মেসবাহ বাপ্পী। তাঁদের সুরের মূর্ছনায় রাত ১১টা পর্যন্ত উৎসবমুখর ছিল অনুষ্ঠান।
সভাপতি মেহদি ফারহান জানিয়েছেন, আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে ফেডারেশন অব বাংলাদেশি মেডিক্যাল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সভা ও সম্মেলন। সারা অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও তাঁদের পরিবারকে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাবে বিএমএস এনএসডব্লিউ।
দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন: রক্ত দান, অস্ট্রেলিয়া দূর পরবাস, প্রতিষ্ঠানের খবর।



