ভৈরবে ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা, যুবককে লিবিয়ায় বিক্রি
ভৈরবে ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা, যুবক লিবিয়ায় বিক্রি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শরমিন মিয়া নামের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নাম করে প্রতারণা করেছে মানবপাচারকারী মানিক মিয়া। ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে যুবককে আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় মানবপাচারকারী দালাল চক্রটি। পরে তার পরিবার মানবপাচারকারী চক্রের নিকট তাদের দাবির ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

আদালতে অভিযোগ দায়ের

কয়েক দিন আগে দেশে এসে শরমিন মিয়া এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ভৈরব থানাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

শরমিনের বর্ণনা

প্রতারণার শিকার যুবক শরমিন মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মানবপাচারকারী মানিক মিয়ার সহযোগী সামাদ লেংটা তাকে লিবিয়া হয়ে বৈধপথে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তার কাছে নগদ ২০ লাখ টাকা না থাকায় ৬ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে সামাদ লেংটা বলেন, নগদ টাকা দেওয়ার দরকার নেই। জমি বিক্রি না করে মানবপাচারকারী মানিকের নামে লিখে দিলেই হবে। পরে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে দালাল মানিকের নামে গত ২৮ আগস্ট ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় ঘটনার মূল হোতা মানবপাচারকারী মানিক মিয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিপণ ও নির্যাতন

পরে তাকে লিবিয়ার অজ্ঞাত ও নির্জন বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাড়িতে পরিবারকে ঘটনা জানায়। পরে তার পরিবার বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে সামাদ লেংটাকে দিলে মাফিয়া চক্রটি তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

পলাতক আসামি

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের অভিযোগটি আমি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাব।