যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: রাশিয়ার তেলের ওপর অস্থায়ী ছাড়
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিল

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

ইরানের হুমকি ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরাকের মতো দেশগুলো এই সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, "বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ইরানের হুমকি মোকাবিলা করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।"

নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস ও বর্তমান সিদ্ধান্ত

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

  • জাহাজে লোড করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির জন্য অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।
  • গত ১২ মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ার যেসব তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য জাহাজে বোঝাই করা হয়েছে, সেগুলো ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাধা ছাড়াই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করা যাবে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ সেই সংকট কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।

রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে এই অস্থায়ী ছাড় কীভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।