জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে রেকর্ড সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রোহিঙ্গাদের আগমন ও বর্তমান পরিস্থিতি
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাথিউ সল্টমার্শ বলেছেন, 'আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মিয়ানমার থেকে সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশ ইতোমধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, কিন্তু নতুন করে আগমন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।'
বাংলাদেশের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে কক্সবাজারে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে নতুন আগমনের ফলে শিবিরগুলোতে ভিড় বাড়ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জাতিসংহ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সহিংসতা বেড়েছে, যা রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে উৎসাহিত করছে। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, 'আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে চাপ প্রয়োগ করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে।'
ইউএনএইচসিআরের মতে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ তৈরি জরুরি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।



