লন্ডনে প্রবাসী সাংবাদিকদের বৈশাখী উৎসবে গান-কবিতার মিলনমেলা
পূর্ব লন্ডনের মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠিত হলো এক অনবদ্য বৈশাখী আড্ডা। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাঈম-সালেহ পরিষদের আয়োজনে নববর্ষ উদযাপনের এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। সৈয়দ নাহাস পাশার নেতৃত্বে আয়োজিত এ সন্ধ্যায় গান, কবিতা, নৃত্য, গল্পকথা ও খুনসুটিতে প্রাণময় হয়ে উঠেছিল পুরো পরিবেশ।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত বৈশাখী সন্ধ্যা
অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময় থেকে দুই ঘণ্টা পর শুরু হলেও মজাদার ইলিশভাজা ও খিচুড়ি পরিবেশনের মাধ্যমে দেরি পুষিয়ে নেওয়া হয়। সাঈম চৌধুরীর সাবলীল উপস্থাপনায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে বাউল শহীদ পরিবেশন করেন বৈশাখ নিয়ে রচিত তাঁর স্বরচিত গান। ডা. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার আবৃত্তি করেন দেবব্রত সিংহের ‘তেজ’ কবিতা, যেখানে আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
মামুনুর রশীদ পাঠ করেন স্বরচিত ‘পুঁথি’, যা বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও সংস্কৃতিকে ছন্দময়ভাবে উপস্থাপন করে। জিয়াউর রহমান সাকলায়েন পরিবেশন করেন ‘সুজন সখী’ গান, আর উদয় শংকর দাস উপস্থাপন করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের প্যারোডি। ঊর্মি মাযহার ও সারওয়ার-ই আলম পরিবেশন করেন ‘বোশেখ’ ও ‘মেঘবালিকার কথোপকথন’ কবিতা।
গানের ধারাবাহিকতায় প্রাণবন্ত আড্ডা
আহমেদ ময়েজ পরিবেশন করেন মরমি ধারার গান ‘একখান বাঁশির সুরে গো মন মথুরা নাচে বৃন্দাবন’। রূপি আমিনের কণ্ঠে ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ গানটি সুরের আবেশ ছড়ায়, আর লুৎফুন্নাহার বেবি পরিবেশন করেন ‘নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন নাইরে টেলিগ্রাম’। বাউল শহীদের ‘আইলারে নয়া দামান আসমানেরও তারা’ গানে সৈয়দ আনাস পাশার নৃত্য পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করে।
আবু মুসা হাসান ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ গানটি পাঠ করেন গদ্যের মতো করে, যা সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পলি রহমান ও হাফসা নূর যৌথভাবে পরিবেশন করেন ‘তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা’ গান। মাসুদ হাসান খান পরিবেশন করেন ‘আমার বুকের মধ্যখানে মন যেখানে হৃদয় যেখানে’ গানটি।
যাত্রাপালা ও কবিতায় বৈচিত্র্যময় আয়োজন
সাঈম চৌধুরী রচিত ‘গরম দেশের গরম রাজা’ যাত্রাপালায় অভিনয় করেন ঊর্মি মাযহার, মো. সালাউদ্দিন ও আবদুল কাদির মুরাদ চৌধুরী। হামিদ মোহাম্মাদ আবৃত্তি করেন ‘আমার খালি ডর লাগে তোমারে নিয়া’ কবিতা। হিলাল সাইফ পরিবেশন করেন স্বরচিত ছড়া, যেখানে পরচর্চার বিষয়টি তীর্যকভাবে উপস্থাপিত হয়।
ভূরিভোজ ও সম্মিলিত নৃত্যে সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের শেষভাগে পরিবেশিত হয় নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ, খিচুড়ি, বিভিন্ন ভর্তা ও মিষ্টান্ন। মোস্তফা কামাল মিলন পরিবেশন করেন ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ ও ‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল’ গান। সমাপনী পর্বে বাউল শহীদ ও কালান্দারের কণ্ঠে জনপ্রিয় বাংলা গানের সঙ্গে ধামাইল নৃত্যে অংশ নেন সৈয়দ নাহাস পাশা, জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, ঊর্মি মাযহার, মাসুদ হাসান খানসহ অনেকে।
সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হওয়া এ আড্ডায় বয়সের ব্যবধান ডিঙিয়ে অগ্রজ-অনুজরা মিলে মিশে উপভোগ করেন নির্মল আনন্দ। বৈশাখী এ আয়োজন কেবল বর্ষবরণের বার্তাই বহন করেনি, বরং সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণীও প্রচার করেছে। প্রবাসে বসবাসরত বাঙালি গণমাধ্যমকর্মীদের এ মিলনমেলা হয়ে উঠেছিল স্মরণীয় এক সাংস্কৃতিক উৎসব।



