ইরান যুদ্ধে আটকা বাংলাদেশিদের প্রথম দল আজারবাইজান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রথম দল আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর (বাংলাদেশি সময় রাত সাড়ে ৮টা) বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
দূতাবাসের প্রতিনিধি ও যাত্রীদের বিবরণ
বাকু থেকে আসা বাংলাদেশিদের এই দলের সঙ্গে রয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ শাহনূর আলী। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ফ্লাইটে ঢাকাগামী যাত্রীদের মধ্যে ১১ জন নারী, ১০টি শিশু ও ১৬৫ জন পুরুষ রয়েছেন, যা মোট ১৮৬ জনের একটি নিরাপদ প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।
সরকারি তদারকি ও সহায়তা
প্রসঙ্গত, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়টি তদারকের জন্য সরকার তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে গত বুধবার আজারবাইজানে পাঠায়। প্রতিনিধিদলটি গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্তে স্বাগত জানান। পরে সেখান থেকে তাঁদের বাসে করে বাকুর বিমানবন্দরে নেওয়া হয়।
আমানুল হক এই প্রতিবেদককে জানান, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে এই বাংলাদেশিদের বাকু বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএএম)। এই সহযোগিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে নাগরিকদের নিরাপদে উত্তোলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অভিবাসন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই বিশেষ ফ্লাইটটি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে জড়িত হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বড় আকারের প্রত্যাবাসন উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আরও বাংলাদেশি নাগরিক যারা ইরানে আটকে রয়েছেন, তাদের ফেরত আনার জন্য অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা ও প্রত্যাবাসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের একটি উদাহরণ। এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে যারা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করছেন।



