সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের শোকাবহ মৃত্যু
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুন

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের শোকাবহ মৃত্যু

সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে বাংলাদেশি প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫) মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামে।

পরিবারের করুণ অবস্থা ও দেশে ফেরার স্বপ্ন

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদুল ফিতরের এক মাস পর মামুনের দেশে ফেরার কথা ছিল। তিনি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন নতুন বাড়ি, কিন্তু তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে তিনি ১৫ বছর আগে সৌদি আরবে যান এবং সবশেষ পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। তাঁর স্ত্রীর নাম শারমিন আক্তার (৩০), এবং এ দম্পতির মাহেদী শেখ (৬) নামে একটি ছেলেসন্তান আছে।

হামলার ঘটনা ও মৃত্যুর বিবরণ

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মামুন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা মামুনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বুধবার মামুনের মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের আবেদন ও শোক

মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শাহিদা খাতুনের কান্না থামছে না। শাহিদা খাতুন বলেন, 'আমরা অসহায় গরিব মানুষ। আমার বাবারে টেকার জন্য বিদেশ পাঠাইছি। আমার বাবা খালি কইছে টেহা কামাইয়া বাড়িঘর করবাম। আমার বাবা তো বাড়িঘর কিচ্ছু করতারলো না। একটা ছেরা আছে, তার লাগি কিছু করতারলো না, বাপ-মার লাগিও কিছু করতারলো না। সরকারের কাছে আবেদন জানাই আমার পুতের লাশ যত তাড়াতাড়ি পারে আইনা দেওক।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সন্তানের মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা শহীদ সওদাগর। তিনি বলেন, 'আমরা যে কী কইরা চলব, নাতি যে কী কইরা চলবো, সরকার তার একটা পথ কইরা দেওক। সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যেভাবেই হোক লাশ দেশে এনে দিক।'

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতা

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, 'ওই পরিবারের কাছে ঈদের দিনের যাবতীয় সামগ্রী আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। দেশে দ্রুত লাশ আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রচেষ্টা শুরু করা হচ্ছে।'

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুর রহমান বলেন, 'যুদ্ধে নিহত বাংলাদেশি যুবকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যিনি মারা গেছেন, তাঁর পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনার জন্য ইউএনওকে বলা হয়েছে। মরদেহ আগে দেশে আসুক, দাফন হোক। তারপর স্ত্রী ও পরিবারের স্বনির্ভরতার জন্য প্রয়োজনীয় যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, সেসব বিষয়ে আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করব।'

এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আতঙ্কে রয়েছেন, এবং দেশে পরিবারের সদস্যরাও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। সরকারি সহযোগিতা ও দ্রুত লাশ ফেরত আনার দাবি জানাচ্ছেন সবাই।