মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চরফ্যাশনের প্রবাসী রবিন মোল্লাসহ পাঁচজন নিহত
মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন সাইটের গেস্টহাউসে সংঘটিত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনায় ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রবাসী যুবক মো. রবিন মোল্লা (২৫) সহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশটির রাজধানী মালেতে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রবিন মোল্লা ও তার সহকর্মীরা কাজ শেষে গেস্টহাউসে ফিরে রাতে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ করেই তাদের কক্ষে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হলে সাতজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় ধিগুড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিন মোল্লাসহ পাঁচজন মারা যান।
নিহতের পারিবারিক পটভূমি
নিহত রবিন মোল্লার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি মো. সিরাজ মোল্লা ও আরজু বেগমের ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে ব্যাংক ঋণ ও ধার করা টাকায় মালদ্বীপে পাড়ি জমান রবিন। তার পরিবার নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছিল।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অবিবাহিত রবিন প্রবাসে থেকে আয় করে ঋণ পরিশোধ করে দেশে ফিরে একটি ঘর নির্মাণ ও বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। দুর্ভাগ্যবশত, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার সব স্বপ্ন মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের অবস্থান
নিহতের বাবা মো. সিরাজ মোল্লা জানান, সেদিন রাতে ছেলে খাবার খেয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত প্রায় দুইটার দিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার ছেলেসহ ওই কক্ষে থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে অন্য প্রবাসীরা পরিবারকে এ খবর জানায়। রবিনের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
নিহতের পরিবার দ্রুত সময়ের মধ্যে রবিন মোল্লার মরদেহ দেশে এনে হস্তান্তরের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, "নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।"
দুর্ঘটনার পরিণতি
এই ঘটনায় মোট সাতজন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজন নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন। আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশী দূতাবাসের তদন্ত ও সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই দুর্ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জীবনমানের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের জন্য আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা প্রয়োজন।
