মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
মালদ্বীপে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে দেশটির দিঘুরা দ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে এই করুণ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা সদর আলী (৪৫) রয়েছেন। তবে বাকি চারজনের নাম ও ঠিকানা এখনো অজানা রয়ে গেছে।
সদর আলীর জীবন ও পরিবার
নিহত সদর আলী বানিয়াচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহব্বতখানী মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতেন। দেশে তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছেন, যারা এখন এই মর্মান্তিক খবরে শোকাহত।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল রাতে মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপের একটি বাড়িতে সাহ্রির জন্য রান্না করার সময় হঠাৎ করেই গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণের ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিক আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তারা বের হতে পারেননি এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে সদর আলীর এক সহকর্মী হাসান ফোন করে পরিবারকে এই দুঃসংবাদটি জানান।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া
সদর আলীর মৃত্যুর খবরে তাঁর বাড়িতে এখন মাতম ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা শোকাহত পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে ভিড় করছেন এবং এই দুর্ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা এই আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক ও বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছেনি। তবে তিনি বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে।
এই দুর্ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আরও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছে।
