মায়ের ইচ্ছা পূরণে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী দুই ভাই
মায়ের ইচ্ছা পূরণে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরলেন প্রবাসী দুই ভাই

মায়ের ইচ্ছা পূরণে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী দুই ভাই

মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে হেলিকপ্টারে করে মাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী দুই ভাই। তাদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং শত শত মানুষ তাদের দেখতে ভিড় করে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে মা ও দুই ছেলে গ্রামের বাড়ি পৌঁছান।

মায়ের সংগ্রাম ও ছেলেদের সাফল্য

জানা যায়, ১৮ বছর আগে স্বামী বাচ্চু মিয়ার মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে নিয়ে অকূলপাথারে পড়েছিলেন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের পেয়ারা বেগম (৬০)। অনেক কষ্টে তিনি দুই ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠান। আজ হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি পৌঁছালে তাদের স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী মা ও প্রবাসী দুই ভাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। হেলিকপ্টারে বাড়ি আসার কথা শুনে অনেকে দেখার জন্য তাদের বাড়ি ভিড় করেন।

পেয়ারা বেগম জানান, তার বড় ছেলে হানিফ মিয়া ১৪ বছর ও ছোট ছেলে মানিক বাদশা ১২ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কাজ করছেন। কয়েক বছর পরপর হানিফ দেশে আসে। এবারই প্রথম এসেছে মানিক। এক যুগ পর মা–ছেলে সবাই মিলে একত্রে ঈদ করবেন। দেশে ফেরার আগে ছেলেরা আমার কাছে ইচ্ছার কথা জানতে চেয়েছিল জানিয়ে পেয়ারা বেগম আরও বলেন, "ছেলেদের কাছে তাদের সঙ্গে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি আসার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলাম। আজ দুই ছেলে একসঙ্গে দেশে ফিরেছে। ইচ্ছা পূরণ করতে আমাকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই ছেলে।"

প্রবাসী ভাইদের আনন্দ ও এলাকার প্রতিক্রিয়া

প্রবাসী মানিক বাদশা জানান, তাদের দুই ভাইয়ের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন মা। মায়ের একটা ইচ্ছা ছিল, দেশে ফিরলে হেলিকপ্টারে চড়ে বাড়ি ফিরবেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দিত তারা। এ বিষয়ে প্রবাসী দুই ভাইয়ের চাচা জাকির ফরাজী বলেন, "ভাতিজারা দীর্ঘদিন পর দেশে এসে মায়ের শখ পূরণ করল। হেলিকপ্টার থেকে যখন নামছিল, শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছে। তাদের কাছে গিয়ে অনেকেই হাত মিলিয়েছে, কেউ জড়িয়ে ধরেছে, আবার কেউ ফুল দিয়েছে। গ্রামে এত দিন একলা থাকা মায়ের বুক নিশ্চয়ই গর্বে ভরে উঠেছে এমন দৃশ্য দেখে।"

এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং মাতৃভক্তির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রবাসী দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ তাদের মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটিয়েছে, যা এলাকাবাসীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হয়ে থাকবে।