সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত ১০
সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত ১০

সৌদি আরবের রিয়াদে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাটির কাছে আল-খারজ এলাকায় একটি ক্লিনিং ও মেইনট্যানেন্স কোম্পানির আবাসনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১০ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

রবিবার (৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আল-খারজের আলহারাদ সড়কের পাশে শিল্প এলাকায় অবস্থিত আলতোয়েক অপারেশন অ্যান্ড মেইনট্যানেন্স কোম্পানির শ্রমিক আবাসনে এই হামলা ঘটে। ওই সময় আবাসনে প্রায় ৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছিলেন, যারা আল-খারজ মিউনিসিপ্যালিটি এলাকায় কীটনাশক স্প্রে করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়ার আগ মুহূর্তে আকস্মিকভাবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়, যা রুমের বাইরে অবস্থানকারী কয়েকজনকে আঘাত করে।

নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাচ্চু মিয়ার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন ময়মনসিংহের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, যার শরীরের ৭২ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে, এবং নরসিংদীর অনিক মিয়া, যিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আইসিইউতে অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দূতাবাস ও মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনার পরপরই আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন এবং তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। বাকি কর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে আলউরুদ এলাকার একটি সরকারি মিউনিসিপ্যালিটির শ্রমিক আবাসনে স্থানান্তর করা হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত করে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাস আল-খারজ অঞ্চলের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৃতদেহের দ্রুত পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে সৌদি কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিহতদের লাশ দেশে আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও সতর্কতা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সৌদি আরবে দুইজন, বাহরাইনে একজন এবং দুবাইয়ে একজন রয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইদের প্রতি আহ্বান, যেহেতু বর্তমান সংকটে আমাদের হাত নেই, তাই সংঘাতপূর্ণ এলাকা এবং আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থানগুলো এড়িয়ে চলুন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দিকনির্দেশনা ও সতর্কতা মেনে চলুন।" এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে, যাদের দূতাবাসগুলো পূর্ণাঙ্গ সেবা দিচ্ছে।

আহতদের চিকিৎসা ও অবস্থা

আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজন ছাড়াও আরও সাতজনের পরিচয় জানা গেছে, যাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাকিবুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামরুল মিয়া, নরসিংদীর রেজাউল করীম রাব্বি, শফিক, আব্দুল জলিল, মোবারক হোসাইন এবং কুমিল্লার রাসেল মিয়া রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এদের আঘাত গুরুতর নয় এবং দুই-একদিনের মধ্যে চিকিৎসা শেষে রিলিজ দেওয়া হবে। রাসেল মিয়াকে ইতোমধ্যে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

গুরুতর আহত টাঙ্গাইলের সবুজ মিয়াকে, যার উরুর হাড় ভেঙে গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য রিয়াদের কিং সাউদ মেডিক্যাল সিটিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মামুন ও অনিক মিয়া সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যেখানে অনিক মিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি), যারা জানিয়েছে সৌদি আরবের আল-খারজেসহ বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি আল-খারজেই সংঘটিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর কতটা পড়তে পারে তার একটি উদাহরণ।