আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে নতুন কর্মীর প্রথম দিনে কাজে না আসা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা নতুন কিছু নয়। তবে রাইড-শেয়ারিং জায়ান্ট উবারে ঘটেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা, যা সাধারণ নিখোঁজ হওয়াকে ছাড়িয়ে ডিজিটাল চুরির রূপ নিয়েছে। কোম্পানির দেওয়া একটি দামি ম্যাকবুক ল্যাপটপ নিয়ে সম্পূর্ণ অস্তিত্বহীন হয়ে গেছেন এক নবনিযুক্ত কর্মী।
ঘটনার বিবরণ
হায়দরাবাদ ভিত্তিক উবারের প্রিন্সিপাল রিক্রুটার রঘু তেন্নেতি লিঙ্কডইনে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে একটি পোস্ট করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি জানান, ওই প্রার্থী নির্ধারিত দিনে কাজে যোগ দেননি। কোম্পানি থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দেখা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেওয়া তার ফোন নম্বরটি অস্বাভাবিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
আইটি বিভাগের চেষ্টা
ঘটনা আরও রহস্যময় হয় যখন উবারের আইটি বিভাগ ল্যাপটপটির অবস্থান ট্র্যাক করার চেষ্টা করে। তারা দেখতে পায়, ল্যাপটপটি ইতোমধ্যে ফ্যাক্টরি রিসেট করা হয়েছে এবং একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এনক্রিপ্টেড প্রক্সির মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। তেন্নেতির ভাষ্যে, 'আমাদের আইটি টিম ল্যাপটপটি ট্র্যাক করার চেষ্টা করে দেখে সেটি ফ্যাক্টরি রিসেট করা। এনক্রিপ্টেড প্রক্সি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ট্র্যাকিং সিগন্যালে এমন কিছু ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক দেখাচ্ছে যা এই গ্রহে থাকা সম্ভব নয়।'
পরিকল্পিত ডাকাতি
এই পুরো ঘটনাকে সাধারণ ফাঁকি দেওয়ার চেয়ে অনেক বড় কিছু আখ্যা দিয়ে রিক্রুটার রসিকতা করে লিখেছেন, 'এই ব্যক্তি শুধু প্রথম দিন কাজে ফাঁকি দেননি। তিনি নিজের পুরো ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন এবং কোনো ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট না রেখেই হাওয়া হয়ে গেছেন। একে ঘোস্টিং বলে না, এটা একটা পরিকল্পিত ডাকাতি।' সিনেমার চরিত্র ইথান হান্টের সঙ্গে তুলনা করে তিনি আরও যোগ করেন, 'সত্যি বলতে, ব্রো, আপনার দক্ষতার প্রতি সম্মান রইল। তবে আমাদের ল্যাপটপটা দয়া করে ফেরত দিন।'
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
পোস্টটি নজর কাড়ার পর নেটিজেনরা বিনোদন, অবিশ্বাস এবং পপ-কালচার রেফারেন্স দিয়ে মন্তব্য করছেন। এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে লেখেন, 'তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন, এই লোকটা মাসের পর মাস লিটকোড সমস্যার সমাধান করল, উবারের কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারভিউ, বিহেভিওরাল রাউন্ড, সিস্টেম ডিজাইন আর এইচআর রাউন্ড পার করল... শুধুমাত্র একটা ম্যাকবুক চুরি করার জন্য? একটা ল্যাপটপের জন্য মানুষের ধৈর্য আর নিষ্ঠা এই পর্যায়ে যেতে পারে!' আরেকজন করপোরেট সংস্কৃতির আদলে লেখেন, 'এটা কোনো চাকরির প্রতারণা নয়। এটা ছিল একটা উল্টো রিক্রুটমেন্ট ড্রাইভ। ভাই আপনাদের ইন্টারভিউ নিলেন, আপনাদের প্রক্রিয়া যাচাই করলেন, কোম্পানির সম্পদ সংগ্রহ করলেন, আপনাদের সিকিউরিটি রেসপন্স পরীক্ষা করলেন এবং চলে গেলেন। কোথাও কোনো বোর্ডরুমে হয়তো এখন প্রেজেন্টেশন চলছে যার শিরোনাম: টার্গেট অর্গানাইজেশন পেনিট্রেশন রিপোর্ট — মিশন সাকসেসফুল।'
অন্য একজন এটিকে নেটফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজের গল্পের সাথে তুলনা করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, উবারের মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাকে বোকা বানিয়ে ওই ব্যক্তি যেন কোনো জনপ্রিয় ভিডিও গেমের সাইড মিশন সফলভাবে শেষ করেছেন। সূত্র: নিউজ১৮।



