সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পরিবারের ৫ জন নিহত, আহত ১১ বছরের মেয়ে
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পরিবারের ৫ জন নিহত

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের একটি পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য, যিনি বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিবরণ

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মিজানুর রহমান (৪২), তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমি (৩০) এবং তাদের দুই কন্যা মোহনা (১৩) ও সুবাহ। এছাড়াও নিহত হয়েছেন বালাকোট এলাকার হোসেন মোহাম্মদ জিলানি (৩০) যিনি বাবো নামে পরিচিত। সকলেই লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

রামগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনাটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) সৌদি আরবের আবহা এলাকায় সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, "আমরা প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জানতে পেরেছি যে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আমরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি।"

উমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা

মিজানুর রহমানের বড় ভাই বাহারুল আলাম জানান, মিজানুর দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে হোটেল ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি তার স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। উমরাহ পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

বাহারুল আলাম বলেন, "মিজানুর পরিবার উমরাহ পালন করে ফিরছিল। দুর্ঘটনার সময় তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে পরিবারের চার সদস্যসহ আরেকজন নিহত হন।"

আহত কন্যার চিকিৎসা ও পরিবারের করুণ অবস্থা

দুর্ঘটনায় মিজানুর রহমানের আরেক কন্যা ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফাইজার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। রামগঞ্জের বাসিন্দারা শোকাহত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত সদয় ও সমাজসেবী ব্যক্তি। তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমিও এলাকায় সবার প্রিয় ছিলেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, তারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। মৃতদেহ বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "প্রবাসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়, কিন্তু এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কখনো কাম্য নয়।"

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এটিই প্রথম ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে সেখানে একাধিক বাংলাদেশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন।