মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক অপহরণ: মুক্তিপণ দাবি, পুলিশ তদন্তে
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক অপহরণ: মুক্তিপণ দাবি ও উদ্বেগ

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকায় এক বাংলাদেশি শ্রমিক অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেছে, যা প্রবাসী সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চেরাস থানায় দায়ের করা এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেন রাশেদ মোহাম্মদ (৩৩), যিনি পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি জানান, তার বন্ধু মোহাম্মদের মা তাকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তাকে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাশেদ মোহাম্মদ কুয়ালালামপুরের তামান মিহারজা ফেজ–২ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন, তবে সেখানে মোহাম্মদকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তিনি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুক্তিপণের দাবি ও অর্থপ্রদান

এরপর ১৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টার দিকে মোহাম্মদের পরিবার জানায়, তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করেছেন যে তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে। অপহরণকারীরা প্রথমে ১ লাখ রিঙ্গিত মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৫০ হাজার রিঙ্গিতে নামিয়ে আনে।

পরিবারের সদস্যরা, যারা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, ইতোমধ্যে অপহরণকারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা) তিনটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংকে নাসিমা আক্তারের নামে ৯৭ হাজার টাকা
  • ইসলামী ব্যাংকে নাসিমা আক্তারের নামে ২ লাখ টাকা
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অন্য একটি হিসাবে বিবি মরিয়মের নামে আরও ২ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে

তবে এত টাকা পাঠানোর পরও অপহরণকারীরা এখনো মোহাম্মদের পরিবারকে মুক্তিপণের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপহরণের সম্ভাব্য স্থান ও তদন্ত

অভিযোগে আরও বলা হয়, মোহাম্মদ তামান মিহারজা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন এবং সেখানেই তার একটি ছোট মুদি দোকানও ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে মালয়েশিয়া পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত অপহৃত ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং অপহরণকারীদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রবাসী উদ্বেগ ও হাইকমিশনের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (কনস্যুলার) জানান, অপহরণের শিকার মোহাম্মদকে উদ্ধারে এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে মালয়েশিয়া পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, হাইকমিশন থেকেও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।