পাকিস্তানের কারাবন্দী ইমরান খানের চিকিৎসা সম্পন্ন, হাসপাতালে অবস্থা স্থিতিশীল
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অবশেষে চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে তার চোখের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণ
চোখের চিকিৎসার জন্য ইমরান খানকে পিমস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার চোখে দ্বিতীয় ডোজের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার আগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের একটি বোর্ড তাকে পরীক্ষা করেন, যেখানে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও উপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে ইমরানের ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি পরীক্ষা করা হয় এবং উভয় পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।
পূর্ববর্তী চিকিৎসা ও বিতর্ক
এর আগে, গত ২৪ জানুয়ারি একই হাসপাতালে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল বলে তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল। ৭৩ বছর বয়সী ইমরান ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারাতে বসেছেন তিনি। ইমরানের আইনজীবী সালমান সাফদার ফেব্রুয়ারি মাসে জানিয়েছেন, তার ডান চোখ মাত্র ১৫ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।
- ইমরানের ছেলে কাসিম খান অভিযোগ করেছেন, আটক অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে তার বাবার শারীরিক অবস্থা অবনতি হয়েছে।
- ইমরানের প্রেস উপদেষ্টা সায়েদ জুলফিকার বুখারি দাবি করেছেন, তাকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
- গত সপ্তাহে কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইসলামাবাদের সরকারকে সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পটভূমি
ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির দায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উভয়ই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান। ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা সহিংসতায় রূপ নেয় এবং বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ দাবি করেছেন, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
