বরিশালে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে
বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব মার্চ মাস থেকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলে শিশু মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা বিভাগে হামে মোট শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ২০-এ নিয়ে গেছে।
শিশু মৃত্যু ও ভর্তির পরিসংখ্যান
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন যে, হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯০ শিশু ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরে এই বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে এসেছে ২ হাজার ১১৭ শিশু, যাদের মধ্যে ৮৪ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
প্রাদুর্ভাবের সময়রেখা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
শুরুর দিকে সীমিত সংখ্যক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসলেও মার্চ মাসে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকে। শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল উল্লেখ করেছেন, বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব মূলত মার্চে তীব্রতা পায় এবং এখনো তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তিনি বলেন, 'বরগুনায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল, এবং এপ্রিলের শুরুতে পটুয়াখালীতেও সমানভাবে বাড়ছে। এখন এই দুই জেলাতেই হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।' হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশু সবাই বরগুনার বাসিন্দা।
নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও আশাবাদ
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, 'আমরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছি।' এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব কমানোর চেষ্টা চলছে, যদিও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক রয়েছে।



