ইমরান খানের জামিন আবেদন: তোশাখানা মামলায় সাজা স্থগিত ও চিকিৎসার দাবি
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান তোশাখানা-২ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণে জামিন চেয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আবেদনটি তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদার ও সালমান আকরাম রাজার মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও সাজা
গত বছরের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ আদালত তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। এই মামলাটি রাষ্ট্রের বিলাসবহুল উপহার কম দামে ক্রয় এবং পরে তা বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ইতালির বিশালবহুল ব্র্যান্ড বুলগারির একটি ‘জুয়েলারি সেট’ কেনার সঙ্গে মামলাটি সরাসরি সম্পর্কিত।
২০২১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে বুলগারির ওই জুয়েলারি সেটটি উপহার দিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ইমরান খান মাত্র ২৯ লাখ রুপির বিনিময়ে ওই জুয়েলারি সেটটি গ্রহণ করেন, অথচ এর বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি রুপি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটে হেরে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান।
চিকিৎসা ও মানবিক কারণ
আবেদনে ইমরান খানের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি তার ডান চোখের গুরুতর রোগে ভুগছেন। রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তার ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি ওই চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি পাচ্ছেন। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসাজনিত জটিলতা এতটাই গুরুতর যে কারাগারের ভেতরে এর যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব নয়।’
এছাড়াও, আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা বা ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদনের দ্রুত শুনানির জন্য পৃথক আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারীর পক্ষে দাবি করা হয়েছে, ‘মামলার মেরিট এবং চিকিৎসার কারণে সাজা স্থগিতের জন্য আবেদনকারীর অত্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে।’
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানের এই আবেদন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার সমর্থকরা মানবিক দিক তুলে ধরে জামিন মঞ্জুরের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা এই আবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছেন। আদালত এখন এই আবেদনের শুনানি নির্ধারণ করবে এবং চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ইমরান খানের ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই এবং তার স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ে দেশব্যাপী উদ্বেগ ও আলোচনা চলছে।
