নাসার কিউরিওসিটি রোভারের মঙ্গলে প্রাণের নতুন উপাদান সন্ধান
কিউরিওসিটি রোভারের মঙ্গলে প্রাণের নতুন উপাদান আবিষ্কার

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গল গ্রহে এক অভূতপূর্ব রাসায়নিক পরীক্ষা চালিয়েছে। অন্য কোনো গ্রহে এ ধরনের পরীক্ষা আগে কখনো হয়নি। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই লাল গ্রহটিতে প্রাণের কিছু নতুন উপাদানের সন্ধান মিলেছে।

পরীক্ষার ফলাফল

নাসার নেতৃত্বাধীন বিজ্ঞানী দল এখনই নিশ্চিতভাবে বলছেন না যে মঙ্গলে একসময় প্রাণ ছিলই। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই জৈব অণুগুলো মঙ্গলের নিজস্ব পরিবেশেও তৈরি হতে পারে, আবার উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ার কারণেও সেখানে আসতে পারে।

গেল ক্রেটারে অনুসন্ধান

সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই আবিষ্কার থেকে অন্তত এটা প্রমাণ হয় যে, মঙ্গলের ভূপৃষ্ঠে এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে অবিকৃত অবস্থায় টিকে আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সেই তিন শ কোটি বছর আগে মঙ্গলের বুকে বিশাল সব হ্রদ ও নদী ছিল, যা তরল পানিতে ভরপুর ছিল। আমরা যেমনটা জানি, পানি মানেই প্রাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ঠিক এই কারণেই ২০১২ সালে কিউরিওসিটি রোভারকে গেল ক্রেটার নামে একটি শুকিয়ে যাওয়া হ্রদের তলদেশে নামানো হয়েছিল। তখন থেকেই এটি সেখানে অতীতের সম্ভাব্য প্রাণের চিহ্ন খুঁজছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য

কিউরিওসিটি মিশনের সঙ্গে যুক্ত জ্যোতির্জীববিজ্ঞানী অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘অন্য কোনো গ্রহে এর আগে এমন পরীক্ষা কখনোই চালানো হয়নি।’ তিনি এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে লেখা নতুন গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক। তিনি জানান, ‘বিজ্ঞানীদের ওপর তখন প্রচণ্ড চাপ ছিল। কারণ, পরীক্ষাটি ঠিকঠাক করার জন্য রোভারের কাছে মাত্র দুটি সুযোগ ছিল!’

জৈব অণু সন্ধান

২০২০ সালে চালানো ওই পরীক্ষায় ২০টিরও বেশি জৈব অণুর খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি অণু এমন আগে কখনো মঙ্গলে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বেনজোথায়োফিন নামে একটি অণু রয়েছে, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ড বা গ্রহাণুতেও পাওয়া যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘পৃথিবীতে উল্কাপিণ্ড বৃষ্টির মতো যেসব উপাদান নিয়ে এসেছিল, মঙ্গলেও ঠিক একই জিনিস ঝরে পড়েছিল। সম্ভবত এগুলোই আমাদের পৃথিবীতে প্রাণের আদি উপাদান জুগিয়েছিল।’

এর পাশাপাশি মঙ্গলে নাইট্রোজেনযুক্ত এমন আরেকটি অণু পাওয়া গেছে, যা ডিএনএ তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কাজ করে। উইলিয়ামস যোগ করেন, ‘আমরা মঙ্গলের পাথরে কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত প্রাণের আদি উপাদানগুলো দেখতে পাচ্ছি।’

ভবিষ্যতের অভিযান

তবে এত কিছুর পরও এই উপাদানগুলো কিন্তু প্রমাণ করে না যে একসময় মঙ্গলে অণুজীব বা মাইক্রোবের মতো ছোট কোনো প্রাণ ছিল। অ্যামি উইলিয়ামস জানান, এই ধরনের অসাধারণ দাবি করতে হলে মঙ্গলের কিছু পাথর পৃথিবীতে এনে বিজ্ঞানীদের আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করতে হবে। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার এরই মধ্যে মার্স স্যাম্পল রিটার্ন নামে এমন এক মিশনের জন্য মঙ্গলের বেশ কিছু পাথর সংগ্রহ করে রেখেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, গত জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসের এক ভোটের পর ওই মিশনটি বলতে গেলে বাতিলই হয়ে গেছে।

নতুন প্রযুক্তি

তবে নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণায় বলা হয়েছে, কিউরিওসিটি এই পরীক্ষায় প্রমাণ করেছে, অন্য গ্রহেও টিএমএএইচ নামে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এ ধরনের পরীক্ষা সফলভাবে করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতের অভিযানগুলো দারুণভাবে লাভবান হবে। যেমন, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন রোভারে এই রাসায়নিক পদার্থটি দিয়ে মঙ্গলে পাঠানো হবে। এই রোভারের ড্রিলিং মেশিন বা খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্রটি কিউরিওসিটির চেয়ে অনেক বড়। বহু বছর ধরে পেছানোর পর গত সপ্তাহে নাসা ঘোষণা করেছে, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির এই রোভারটি অবশেষে ২০২৮ সালের শেষের দিকে লাল গ্রহের উদ্দেশে রওনা হবে।

লেখক: ফ্রন্টেন্ড ডেভলপার, সফটভেঞ্চ